সংবাদদাতা, ডোমকল: বাবা রাজমিস্ত্রি। মা গৃহবধূ। বাবার একার উপার্জনে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা পরিবারের। ডোমকলের কামুড়দিয়াড়ের সাদামাটা সেই পরিবারের ছেলে আজিজুল মণ্ডল জাতীয়স্তরের হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পাড়ি দিয়েছে পাঞ্জাবে। অনূর্ধ্ব ঊনিশের জাতীয়স্তরের হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা ২০২৪-এ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হ্যান্ডবল টিমের সদস্য হয়ে খেলবে আজিজুল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের বাছাই করা টিমের সদস্যদের সঙ্গে খেলবে আজিজুল ও তার দল। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাদের খেলা শুরু হবে। চলবে ১১ডিসেম্বর পর্যন্ত। কামুড়দিয়াড়ের প্রত্যন্ত এলাকার একজন তরুণ এভাবে জাতীয়স্তরের খেলায় অংশ নিতে পারায় গর্বে বুক বাঁধছে এলাকাবাসী।
Advertisement
কামুড়দিয়াড় এনএইচ হাইমাদ্রাসা কলা বিভাগের ছাত্র আজিজুল। পড়াশোনায় মেধা থাকলেও অভাবের তাড়নায় স্কুলছুট দিয়ে প্রায়শই শ্রমিকের কাজও করতে হয়। সেখান থেকে দু’পয়সা যা জুটত, সবটাই দিয়ে দিত পরিবারে। বাবাও ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। সেখান থেকে যা উপার্জন আসে তা সংসারেই শেষ হয়ে যায়। তবে স্কুলে গরহাজির থাকলেও হ্যান্ডবল প্র্যাকটিস সে কোনওদিন ভোলেনি। একবারে কাকভোরে উঠে অন্যান্য বন্ধুদের ডেকে স্কুলের মাঠেই প্র্যাকটিসে লেগে পড়ত। পাশপাশি স্কুলে এসেও চলত প্রশিক্ষণ। আজিজুলের স্কুলের ক্রীড়া প্রশিক্ষক মহম্মদ লোকমান শেখ বলেন, ও ভীষণ দুরন্ত ছেলে! যতই অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকুক না কেন, প্রতিদিন নিয়ম করে দু’বেলা হ্যান্ডবল প্রাকটিস করত।
আজিজুলের বাবা জয়লাল মণ্ডল বলেন, আমরা আর্থিকভাবে ভীষণ দুর্বল। ছেলেকে যে হ্যান্ডবল প্র্যাকটিসের জন্য কোনও অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করব তার সাধ্য নেই। এখনও পর্যন্ত যতদূর গিয়েছে ছেলে, সবটাই ওর নিজের আর ওর স্কুল শিক্ষকদের প্রচেষ্টায়। আমি চাইব আমার ছেলে যেন আরও ভালো জায়গায় পৌঁছতে পারে।
কামুড়দিয়াড় এনএইচ হাইমাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন বিশ্বাস বলেন, এখন অনেকেই খেলাধুলো ছেড়ে মোবাইলে মজে গিয়েছে। তারপরেও মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা আজিজুলের মতো ছেলেগুলির পারফরম্যান্স দেখছি তাতে ভীষণ উচ্ছ্বসিত হচ্ছি। আমার বিশ্বাস ওরা এই প্রতিযোগিতায় সেরার শিরোপা অর্জন করে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে।
আজিজুলের বাবা জয়লাল মণ্ডল বলেন, আমরা আর্থিকভাবে ভীষণ দুর্বল। ছেলেকে যে হ্যান্ডবল প্র্যাকটিসের জন্য কোনও অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করব তার সাধ্য নেই। এখনও পর্যন্ত যতদূর গিয়েছে ছেলে, সবটাই ওর নিজের আর ওর স্কুল শিক্ষকদের প্রচেষ্টায়। আমি চাইব আমার ছেলে যেন আরও ভালো জায়গায় পৌঁছতে পারে।
কামুড়দিয়াড় এনএইচ হাইমাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন বিশ্বাস বলেন, এখন অনেকেই খেলাধুলো ছেড়ে মোবাইলে মজে গিয়েছে। তারপরেও মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা আজিজুলের মতো ছেলেগুলির পারফরম্যান্স দেখছি তাতে ভীষণ উচ্ছ্বসিত হচ্ছি। আমার বিশ্বাস ওরা এই প্রতিযোগিতায় সেরার শিরোপা অর্জন করে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে।



