নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রথমবার সফলভাবে সেলিয়াক প্লেক্সাস নিউরোলাইসিসের অস্ত্রোপচার করা হল। জেলার মানুষকে আর এই রোগের চিকিৎসার জন্য কলকাতা কিংবা ভিন রাজ্যে ছুটতে হবে না। অল্প খরচেই জেলায় অস্ত্রোপচার করা যাবে।
Advertisement
প্রিন্সিপাল সুস্মিতা ভট্টাচার্য্য বলেন, ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রথমবার এই ধরনের অস্ত্রোপচার হল। জেলার মানুষকে এতদিন এই ধরনের অপারেশনর জন্য কলকাতা ও অন্য জায়গায় যেতে হতো। ব্যয়বহুল এই অপারেশন কম খরচে এবার এই হাসপাতালেই করা যাবে। ঝাড়গ্রাম শহরের সুভাষপল্লির বাসিন্দা বিয়াল্লিশ বছরের অপূর্ব গোস্বামী পেটের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে দু’ সপ্তাহ আগে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। নানা পরীক্ষায় তাঁর ক্রনিক প্যাঙ্ক্রিয়াটাইটিসের সমস্যা ধরা পড়ে। ব্যাথা কমাতে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। যন্ত্রণা বেড়ে চলায় শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। শল্য বিভাগ থেকে অ্যানাস্থেশিয়া ও ব্যথা নিরাময় বিভাগে তাঁকে স্থানান্তর করা হয়। অ্যানাস্থেশিয়া ও ব্যথা নিরাময় বিভাগের প্রধান চিকিৎসক দেবদীপ্ত দাসের নেতৃত্বে দুই সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক কৌস্তভ মজুমদার ও সৌভিক চক্রবর্তী অপারেশন করেন। চিকিৎসক দেবদীপ্ত দাস এদিন বলেন, রোগী ক্রনিক প্যাঙ্ক্রিয়াটাইটিসের সমস্যায় ভুগছিলেন। রোগীর যন্ত্রণা কমাতে মরফিন ওষুধ দেওয়া হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুক্রবার হাসপাতালে সেলিয়াক প্লেক্সাস নিউরোলাইসিসের অপারেশন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পরেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ইনজেশকশন দিয়ে মূলত এই অপারেশনটি করা হয়। যা ব্যথার উৎপত্তি স্থলের নার্ভে গিয়ে আঘাত করে। রোগীর ব্যথার দ্রুত উপশম হয়। প্রায় ত্রিশ মিনিট ধরে এই অপারেশন হয়েছে। হাসপাতালের সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেই অপারেশন করা সম্ভব হয়েছে । ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়ে অপূর্ব গোস্বামী বলেন, ক্রনিক প্যাঙ্ক্রিয়াটাইটিসের ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়েছি। বাইরের নার্সিংহোমগুলোতে ব্যয়বহুল এই অপারেশন করার সাধ্য আমার ছিল না। চিকিৎসরা ঝুঁকি নিয়ে প্রথমবার অস্ত্রোপচার করেছেন। জেলার যেসব মানুষ এই রোগে আক্রান্ত তাঁরা কম খরচে এখানে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে ছুটতে হবে না।



