Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জটিয়াকালীতে ভুয়ো টেলিফোন এক্সচেঞ্জ খুলেছিল ‘ভাইজান’

জটিয়াকালীতে ভুয়ো টেলিফোন এক্সচেঞ্জ খুলেছিল ‘ভাইজান’
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ঘর কিংবা বাড়ি নয়। দুই হাত চওড়া ও  চার হাত লম্বা র‌্যাকের মাসিক ভাড়া ১০ হাজার টাকা! জটিয়াকালীতে এমনই শর্তে দিয়ে ভুয়ো টেলিফোন এক্সচেঞ্জ খুলে ছিল বাংলাদেশের ‘ভাইজান’ ওরফে কওসার। সাত মাস ধরে সিম-বক্স কাণ্ড নিয়ে তদন্ত চালিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ। একইসঙ্গে গোয়েন্দাদের সন্দেহ, একবছরে সেই ভুয়ো এক্সচেঞ্জ থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে অসংখ্য ফোন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও বাংলাদেশি ‘ভাইজান’-এর নাগাল পায়নি গোয়েন্দারা। তারা ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে কমিশনারেটের কাছে রিপোর্ট দাখিল করেছে। 
Advertisement
শিলিগুড়ি পুলিস কমিশনারেটের এক অফিসার অবশ্য বলেন, সিম-বক্স কাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য মিলেছে। সেসব যাচাই করার কাজ প্রায় শেষ। শীঘ্রই চার্জশিট আদালতে জমা করা হবে। 
মাস সাতেক আগে শিলিগুড়ি শহরের উপকণ্ঠে রাজগঞ্জের জটিয়াকালীতে অভিযান চালিয়ে ভুয়ো এক্সচেঞ্জ সিল করে পুলিস। ক্যাফে বা ফটোকপির দোকানে সেই এক্সচেঞ্জ খোলা হয়েছিল। যার মালিক সাবির আলি। ওই এলাকায় তার বাড়ি। পুলিস সেই সময়ই ক্যাফের মালিককে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে পুলিস চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে। 
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, প্রায় একবছর ধরে সে ভুয়ো এক্সচেঞ্জ চালায়। এজন্য দোকানের র‌্যাক ভাড়া দিয়েছিল ধৃত সাবির। দুই হাত চওড়া ও চার হাত লম্বা লোহার সেই র‌্যাকের মাসে ভাড়া ছিল ১০ হাজার টাকা। সেখানেই বসানো ছিল সিম-বক্স। তাতে অসংখ্যা সিমকার্ড ছিল। যার মাধ্যমে সেখান থেকে কর ফাঁকি দিয়ে আন্তর্জাতিক ফোনকল করা হতো। সহজে মোটা অঙ্কের টাকা কামানোর টোপেই নিজের দোকানের র‌্যাক ভাড়া দিয়েছিল বলে সাবির জেরায় কবুল করে। একবছরে ভাড়া বাবদ আয় করেছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। 
কিন্তু ভুয়ো এক্সচেঞ্জ কাণ্ডের নেপথ্যে কে? পুলিস সেই ঘটনায় শিলিগুড়ি শহরের পাতিকলোনি ও এনজেপি’র ধনতলা থেকে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। যারা সাবিরের এজেন্ট হিসেবে কাজ করত। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জলপাইগুড়ি জেলার বেরুবাড়ি থেকে আরএকজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দারা। পুলিস ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সিম-বক্স কাণ্ডের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট। যার মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের কওসার। পঞ্চগড় জেলায় তার বাড়ি। বেরুবাড়ির চক্রীর মাধ্যমেই বাংলাদেশি ভাইজানের সঙ্গে সাবিরের পরিচয়। সেই ভাইজানই র‌্যাক ভাড়া নিয়ে সিম-বক্স বসিয়েছিল। এজন্য হাওলার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে র‌্যাক ভাড়ার টাকা পাঠাত ভাইজান। 
প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে সেই ভুয়ো এক্সচেঞ্জে হানা দিয়ে রাউটার, সিম-বক্স, ৫০০টি সিমকার্ড বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সেখান থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে প্রচুর কল হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ