নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দিল্লির ভারত মণ্ডপমে জাতীয় যুব উৎসবে সেরার শিরোপা পেলেন কুলটির মেয়ে অনুষ্কা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকশিত ভারত নিয়ে বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় দেশের সেরার শিরোপা পেয়েছেন তিনি। ২০৪৭ সালে কীভাবে দেখতে চান ভারতকে। তা নিয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়ে অনুষ্কা টেনে এনেছেন দেশের চিরন্তন সম্পদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকেই। তাঁর বক্তৃতার একটি অংশে রয়েছে, আমি সেই ভারত দেখতে চাই, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, শিখ সব সম্প্রদায় হাতে হাত ধরে দেশের রাস্তায় হাঁটবে। একজন চপ বিক্রেতার মেয়ের এই স্পর্ধাকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন বিচারকরা। বর্তমানে তিনি পুনেতে শিক্ষকতা করছেন। তাই মহারাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাংলার এই মেয়ে। তাঁর সম্মানে গর্বিত কুলটিও। কুলটির রানিতলা মোড়ে পরিমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের চপের দোকান অনেক দিনের। তাঁরই বড় মেয়ে অনুষ্কা। প্রথম থেকে তৎক্ষণিক বক্তৃতায় পারদর্শী অনুষ্কা। কুলটি কলেজে ইংরেজি অনার্স নিয়ে পড়ার সময়েই জাতীয় ইউথ পার্লামেন্ট প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। তারপর পুরুলিয়া সিধু কানু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা পেশায় মাস্টার ডিগ্রি করেন। এরপরই চাকরি সূত্রে পাড়ি দেন পুনেতে। নিজের প্রতিভা বলে ভিন রাজ্যেও যথেষ্ট পরিচিত হয়ে ওঠেন এই বাঙালি কন্যা। জাতীয় যুব উৎসবে পুনের মধ্যে বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। রাজ্য যুব উৎসবেও এই বাঙালি তনয়া প্রথম হয়ে দিল্লির জাতীয় যুব উৎসবে যোগ দেন। তাঁর তিন মিনিটের বক্তৃতা নজর কাড়ে সকলের। তিনি যেমন দেশের সম্প্রীতি রক্ষার উপর জোর দিয়েছেন তেমনি তাঁর বক্তব্যে ছিল নারী সুরক্ষার কথা। তিনি দাবি করেছেন, গর্ভ থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত নারী সুরক্ষা যেন নিশ্চিত হতে পারে। আমরা এখন ধর্ষকদের সাজা দিচ্ছি। ২০৪৭ সালে যেন ধর্ষক মুক্ত দেশ হয় ভারত।



