Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতীয় সড়কের পাশে ছাইয়ের স্তূপ বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনা, বিষোচ্ছে বায়ু

জাতীয় সড়কের পাশে ছাইয়ের স্তূপ বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনা, বিষোচ্ছে বায়ু
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের রামপুরহাট থেকে মল্লারপুর পর্যন্ত অংশ পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। এই অংশে সড়কের ধারে গজিয়ে উঠেছে বেশ কিছু রাইস ও মুড়ি মিল। সেইসব মিলের ছাই ফেলা হচ্ছে সড়কের ধারে। প্রায়শই সেই ছাই উড়ে এসে বাইক আরোহী থেকে পথচলতি মানুষজনের চোখে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে ছাই ঢুকে সিলিকোসিস প্রবণ এই এলাকায় স্বাস্থ্যের ক্ষতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। সব দেখেও কোনও হেলদোল নেই প্রশাসনের। মাঝখণ্ড থেকে আম্ভা মোড় পর্যন্ত জাতীয় সড়কের সাড়ে সাত কিমি দীর্ঘ অংশে রয়েছে একাধিক চাল ও মুড়ি মিল। সেইসব মিলের ছাই ও বর্জ্য সড়কের পাশে অথবা কয়েকহাত দূরে ক্যানেল পাড়ে ফেলা হচ্ছে। যা এলাকার পরিবেশ যেমন বিষিয়ে তুলেছে, তেমনি দুর্ঘটনাও বাড়াচ্ছে। গত শুক্রবার বাইকে বাচ্চা মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে ফেরার পথে মাঝখণ্ডের কাছে দুজনের চোখে ছাই ঢুকে যায়। বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ায় বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন দেবনাথ দাস ও তাঁর মেয়ে। তবে তাঁরা বেশ কিছুক্ষণ চোখ খুলতে পারেননি। চোখে টানা জলের ঝাপটা দেওয়ার পর স্বাভাবিক হন। প্রতিকার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ও মেয়ের চোখের ছবি পোস্ট করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন দেবনাথ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই মিলগুলি পরিবেশ বান্ধব কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তবেই লাইসেন্স ও পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র দেয়া উচিত। পাথর শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এমনিতেই সিলিকোসিস প্রবণ এই এলাকা। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে এই ছাই। এই সড়ক ধরে প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা যাওয়া আসা করলেও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। ক্রমশ স্বাস্থ্যের পক্ষে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াছে এই ছাই। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট ডাম্পিং গ্রাউন্ড করে এই ছাই ফেলে মাটি চাপা দিয়ে দেওয়া উচিত। রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার ডেপুটি সিএমওএইচ অমিতাভ সাহা বলেন, ছাই মানে তাতে সিলিকা, ডাস্ট ও ফাইন আর্টিক্যাল আছে। এমনিতেই এই এলাকা পাথর শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সিলিকোসিস প্রবণ। প্রচুর রোগী আমরা পাচ্ছি। এই ছাই শরীরে পড়ে অ্যলার্জি, স্কিনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখে ঢুকলে সমস্যা দেখা দেবে বা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এগুলি হল শর্ট টার্ম। আর লং টার্ম হচ্ছে, এই ছাই ফুসফুসের ক্ষতি করবে। এভাবে যত্রতত্র ছাই ফেলা হলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি নিয়ে বাড়তি চিন্তাভাবনা থেকে যাচ্ছে। বায়ুদূষণ রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজনে এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি বাইক আরোহীদের হেলমেট পরে যাতায়াতের পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর।   
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ