সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া মন্তব্য, প্রশাসনের সক্রিয়তার পরও সরকারি জমি দখল অব্যাহত। সম্প্রতি হুড়ায় জাতীয় সড়কের ধারের বনদপ্তরের প্রায় সাড়ে তিন একর জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, জেসিবি দিয়ে পলাশ গাছ উপড়ে ফেলে বনদপ্তরের জমির চারধারে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বনদপ্তর সেই জমি খালি করে দেওয়ার নোটিস দিলেও তা মানা হয়নি। গোটা বিষয়টিতে আইনি পরামর্শ নিয়ে আরও বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হুড়া ব্লকের অন্তর্গত লালপুর মোড় পেরিয়ে বাঁকুড়া যাওয়ার ৬০ এ জাতীয় সড়কের দু’ পাশে রয়েছে বনদপ্তরের জমি। জাতীয় সড়কের ধারে একটি টয়লেট কমপ্লেক্সের পরে বনদপ্তরের প্রায় সাড়ে তিন একর জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই জমির সমস্ত পলাশ গাছ সব উপড়ে ফেলে কাঁটাতারের বেড়াও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকার জমি মাফিয়া এবং প্রভাবশালীদের মদতে ওই সরকারি জমি দখল করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সম্প্রতি এ বিষয়ে হুড়া পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ সভাপতি, কর্মাধ্যক্ষ, বিডিও ছাড়াও ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক এবং বনদপ্তরের আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকেও সরকারি জমি জবরদখল আটকাতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। হুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অরুণকুমার পতি বলেন, জাতীয় সড়কের পাশেই প্রায় সাড়ে তিন একর জায়গাতে জেসিবি মেশিন দিয়ে কেউ বা কারা পলাশ গাছ উপড়ে ফেলেছে। তারপর রাতারাতি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অস্থায়ী শেড বানিয়েছে। ওই জমি বনদপ্তরের। সরকারি ওই জমি প্রভাবশালী কারও মদতে দখল হয়ে যাচ্ছে। সরকারি জায়গা কোনও মতেই দখল হতে দেওয়া যাবে না। বনদপ্তর না পারলে প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা হবে। অরুণবাবু আরও বলেন, দলের কেউ এই কাজে যুক্ত থাকলে প্রশাসন অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। হুড়া ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, অবৈধ দখলদারদের সরাতে বনদপ্তরকে উদ্যোগ নিতে হবে। বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক তথা হুড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলিম আনসারি বলেন, এক শ্রেণির তৃণমূল নেতার মদতে হুড়াতে একের পর এক সরকারি জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বিরোধীদল হিসেবে প্রশাসন চাইলে সরকারি জমি উদ্ধারে সবরকমভাবে পাশে থাকা হবে। হুড়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি সুভাষ মাহাত বলেন, ২০১৩-১৮ সালেও ওই জমি দখল করার চেষ্টা শুরু করেছিল কেউ কেউ।



