Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতীয় সড়কজুড়ে দাপাচ্ছে মোটরভ্যান ফেরেনি হুঁশ, নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পুলিস প্রশাসন  

জাতীয় সড়কজুড়ে দাপাচ্ছে মোটরভ্যান ফেরেনি হুঁশ, নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পুলিস প্রশাসন  
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: একের পর এক দুর্ঘটনা ও তার জেরে মৃত্যু, কিন্তু তারপরেও জাতীয় সড়ক ও শহরের অলিগলিতে মোটর ভ্যানের দাপাদাপিতে রাশ টানতে ব্যর্থ পুলিস ও প্রশাসন। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিস প্রশাসন। কিন্তু কে মানছে সেই নিষেধাজ্ঞা। নিজেদের জারি করা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কোনও উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না পুলিসের মধ্যে। মোটরভ্যানের দৌরাত্ম্যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। 
Advertisement
গত ফেব্রুয়ারি মাসে রামপুরহাটের মনসুবা মোড়ে মোটর ভ্যানের পিছনে ধাক্কা মারে পিকআপ ভ্যান। যার জেরে মৃত্যু হয় মোটর ভ্যানের আরোহী চার মহিলা শ্রমিকের। জখম হন ১১ জন শ্রমিক। যাদের অনেকেই বর্তমানে বিকলাঙ্গ হয়ে বাড়িতে পড়ে রয়েছেন। পরের দিনই জরুরি বৈঠকে বসে রামপুরহাট মহকুমার পুলিস প্রশাসনের কর্তারা সিদ্ধান্ত নেন, জনবহুল এলাকায় যেখানে আলো কম, সেখানে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। মোটর ভ্যান, টোটো সহ সমস্ত স্মল ভেহিকলকে জাতীয় সড়ক ওঠার মুখেই আটকে দিতে হবে। তবে অটো সড়ক ক্রশ করে সার্ভিস রোধে যেতে পারবে। মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে নির্দেশ দেন, কোনওমতেই জাতীয় সড়কে টোটো, মোটর ভ্যান বা কোনও অবৈধ যান চলাচল করতে দেওয়া হবে না। পুলিস ও ট্রাফিককে সেই নির্দেশিকা প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত যৌথ অভিযান চালানোর জন্য বলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ থেকে গিয়েছে কাগজে কলমেই। বাস্তবে কোনও নজরদারি নেই। জাতীয় সড়ক থেকে শহরের রাস্তা সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মোটর ভ্যান। 
পায়ে টানা সাধারণ ভ্যানের মতোই কাঠামো। শুধু লাগিয়ে নেওয়া হচ্ছে ইঞ্জিন। প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় যাত্রী পরিবহণে এই ভ্যানই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এতে মালবহন করা হয়। সেখানেই বিপত্তি। আদতে বেআইনি, তাই এই মোটরভ্যানে মাল পরিবহণের কোনও সীমাও নির্দিষ্ট করা নেই। ফলে যে যেমন খুশি মাল তোলে। আর তার ফলেই অনেক সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানগুলি দুর্ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ। সাধারণত বেআইনি কাটা তেলে চলে এই মোটরভ্যান। দূষণও ছড়ায়। কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারদিক। এ নিয়েও ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। রামপুরহাটের বাসিন্দা শান্তনু মণ্ডল বলেন, রাস্তা ছেয়ে গিয়েছে মোটর ভ্যানে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো আছেই, দূষণও ছড়াচ্ছে গাড়িগুলি। প্রশাসন কেন এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে না, জানি না।
ট্রাফিক পুলিসের এক আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অন্য গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাফিক সংক্রান্ত যে নিয়মকানুন রয়েছে, তার কোনওটাই মোটর ভ্যানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে দূষণ বা অতিরিক্ত মালবহন, কোনও ক্ষেত্রেই এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। নিয়মের এই ফাঁক গলেই মোটর ভ্যানের বাড়বাড়ন্ত। ইদানীং নতুন মডেলের নানা রকম ভ্যান বেরচ্ছে। মাপে অনেকটাই বড়। কোনও কোনও ভ্যানে সাধারণ হ্যান্ডেলের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে স্টিয়ারিং। এর ফলে আরও বেশি মাল বহন করা যাচ্ছে। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। গত ২৮ নভেম্বর রামপুরহাটের রদিপুর গ্রামে স্টিয়ারিং কেটে মোটর ভ্যান উল্টে জখম হন ন’ জন শ্রমিক। জানা গিয়েছে, ভ্যানটিতে ২৭ জন শ্রমিক ছিলেন। 
মহকুমা শাসক বলেন, জনগণকেই ঠিক করতে হবে কোন গাড়ি ব্যবহার করলে ভালো। বাস, অটো তো রয়েছে। এমনিতেই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। পুলিসের ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। আমরা দেখছি, যাতে জনগণের অসুবিধে না হয়, আবার মোটর ভ্যানও নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন কিছু ব্যবস্থা করার। 
সম্পর্কিত সংবাদ