Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতীয় সড়কে তৈরি হাম্পই এখন হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ

জাতীয় সড়কে তৈরি হাম্পই এখন হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পথবাতি না থাকায় অন্ধকারে ঢেকে থাকে রাস্তা। তার উপরে জাতীয় সড়ক। সেখানে স্পিডের কোনও লিমিট থাকে না। এর ফলে হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটে। তাই দুর্ঘটনা রোধে রামপুরহাটের নিউটাউনের কাছে সড়কের উপরে পাহাড় প্রমাণ হাম্প করা হয়েছে। আর এই হাম্পই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে চলেছে বলে অনেকেরই দাবি। তাঁরা বলছেন, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হাম্প দেওয়া হয়েছে। কোনও জাতীয় সড়কে নেই হাম্প। ফলে কিমির পর কিমি এক নাগাড়ে জোরে এসে হঠাৎ হাম্পে বাইক, বাস ও অন্যান্য যানবাহনের গতি কমিয়ে আনতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাতের দিকে অন্ধকারে কার্যত প্রাণ হাতে নিয়েই সওয়ার হচ্ছেন যাত্রীরা। যদিও জাতীয় সড়কের দেখভালের দায়িত্বে থাকা জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্ত গড়াই বলেন, জাতীয় সড়কে হাম্প দিতে পারি না। কিন্তু ওখানে নাকি প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই রামপুরহাট এসডিও কার্যত জোর করে হাম্প তৈরি করিয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, এই জাতীয় সড়ক হাইওয়ের স্ট্যাটাস পেলেও তা মেইনটেন করা যায় না। এখানে টোটো, অটো সবই চলে। যেখান সেখান দিয়ে সড়কে উঠে যাচ্ছে। কোনও সিগল্যানিং ব্যবস্থা নেই। বিকল্প কোনও রুটও নেই। ফলে যেখানে যেমন পরিস্থিতি সেভাবেই চলতে হবে।  
Advertisement
অন্যদিকে এসডিও সৌরভ পাণ্ডে বলেন, এখানে হাইওয়ে তো হাইওয়ের মতো চলে না। টোটো, অটো, মোটর ভ্যান সবই চলাচল করে। নিউটাউনের ওখানে সড়কের ধারে স্কুল, মার্কেট রয়েছে। এদিকে গাড়িগুলো জোরে চলে। তাই রোড সেফটির জন্য পুলিস অনুরোধ করায় ওখানে হাইওয়ে অথিরিটি হাম্প করেছে।   
রামপুরহাটের অদূরে জাতীয় সড়কের ধারে গড়ে উঠছে জনবহুল এলাকা। প্রচুর বড়বড় আবাসন, মার্কেট। নামী ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলও রয়েছে। এখানে সড়কে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। তাই দিন চারেক হল ওই অংশের দু’দিকে সড়কের উপরে উঁচু করে হাম্প দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সড়কে হাম্প দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই।  নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গজিয়ে ওঠা দু’টি হাম্প নিয়ে গাড়িচালকদের বড় একটি অংশের অভিযোগ, হাইওয়ের উপর নির্দিষ্ট গতিবেগে গাড়ি চলে। তাই হাইওয়েতে কোনও হাম্প থাকে না। কিন্তু এখানে হাম্পে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তাছাড়া, যানবাহনের গতি কমে আসায় রাতের দিকে ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। সড়কের অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও ব্যারিকেড রেখে যানবাহনের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারত। তাছাড়া হাম্প তৈরি হলেও নিয়ম মেনে তাতে রং করা নেই। ফলে দূর থেকে বোঝাই যায় না সড়কের কোন অংশে হাম্প রয়েছে এবং তার উচ্চতা কত? কার্যত অন্ধকারে প্রাণ হাতে নিয়েই সওয়ার হচ্ছেন যাত্রীরা।
অন্যদিকে সড়কে নির্দিষ্ট গতিবেগে চালিয়ে এসে হঠাৎ হাম্পে গতি কমাতে গিয়ে অনেকেই বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। কোনও বাইকের চাকা আবার হাম্পে পড়ে লাফিয়ে পার হচ্ছে। 
যদিও এদিন হাম্পের কিছুটা উচ্চতা কমিয়ে রং করে দেওয়া হয়েছে। এসডিও বলেন, দু’টি হাম্পের নির্দিষ্ট দূরত্বে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে চালকরা বুঝতে পারেন। পুলিস অবশ্য জানিয়েছে, এই হাম্পের ফলে সুবিধা হয়েছে। যানবাহনের গতি কমায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমেছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ