Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে ভিটেহারা ৩০ জনকে ইডব্লুএস সার্টিফিকেট দিল পুরসভা

জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে ভিটেহারা ৩০ জনকে ইডব্লুএস সার্টিফিকেট দিল পুরসভা
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জেরে উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন দিতে আরও একধাপ এগল শিলিগুড়ি পুরসভা। বৃহস্পতিবার তারা ৩০টি পরিবারকে ইকোনমিক্যালি উইকার সেকশন (ইডব্লুএস) সার্টিফিকেট প্রদান করেছে। এর ভিত্তিতেই উজানু মৌজায় জমির পাট্টা ও বাড়ি পাবে পরিবারগুলি। একইসঙ্গে আরও ২৫টি উদ্বাস্তু পরিবারকে পুনর্বাসন দিতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের সঙ্গে যৌথ সমীক্ষা করেছে পুরসভা। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত উদ্বাস্তু পরিবারগুলি। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্র হাত তুলে নিলেও দিদি’র সরকারের দৌলতেই একসঙ্গে মিলছে জোড়া উপহার, জমি ও বাড়ি। 
Advertisement
১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জেরে শহরের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচুর মানুষ ভিটেহারা হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দু’টি ওয়ার্ডের ৫৬ জনের বাড়ি ভাঙা পড়েছে। দেড়বছর আগে রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার সময়ই তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়ার কথা ঘোষণা করে পুরসভা। এজন্য উজানু মৌজায় খাস জমি চিহ্নিতও করে। এবার সেই বাসিন্দাদের জমির পাট্টা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এজন্য বৃহস্পতিবার পুরভবনে আরবান ল্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কমিটির বৈঠক করা হয়। সেখানেই উদ্বাস্তু পরিবারগুলির হাতে ইডব্লুএস সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। 
বৈঠকের পর মেয়র গৌতম দেব বলেন, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জেরে বাস্তুহারাদের উজানু মৌজায় বসবাসের জন্য জমির পাট্টা দেওয়া হবে। এরপর বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সেখানে তাঁদের বাড়িও করে দেওয়া হবে। এদিন ক্যাম্প করে বাস্তুহারাদের পাট্টার জন্য শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে। 
এদিন পুরভবনের সভাকক্ষে ওই ক্যাম্প হয়। তাতে আসেন উদ্বাস্তুরা। মেয়র ছাড়াও ১ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান গার্গি চট্টোপাধ্যায়, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য দিলীপ বর্মন সহ পুরসভা এবং ভূমিদপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পুরসভা সূত্রে খবর, ক্যাম্প থেকে যে ৩০ জনকে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে তাঁরা ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘাযতীন কলোনির বাসিন্দা। 
ওই বাসিন্দাদের মধ্যে রেণুকা কুজুর বলেন, স্বামী নেই। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে পূর্তদপ্তরের রাস্তার ধারে বসবাস করছিলাম। রাস্তায় সম্প্রসারণের জেরে বাড়ি ভাঙা পড়েছে। জমির কোনও নথি ছিল না। এবার মেয়র এবং মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে জমির অধিকার পাচ্ছি। রিকশচালক লাল খান বলেন, ৪৩ বছর ধরে বসবাস করছি। দুই মেয়ে রয়েছে। বাড়ি ভাঙার পর আতঙ্কে ছিলাম। এখন রাজ্য সরকারের সহায়তায় জমির অধিকার পাচ্ছি। এঁদের মতো অন্যদেরও একই বক্তব্য। সকলেরই অভিযোগ, রাস্তার জন্য বাড়ি ভাঙা পড়লেও তাঁদের দিকে ফিরেও তাকায়নি কেন্দ্র সরকার। রাজ্য সরকারের সহায়তা ভোলার নয়। 
এ ধরনের আরও ২৫ জন বাসিন্দা আছেন। যারমধ্যে ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাল্লাগুড়ি ও শিবনগরের ১৯ জন এবং ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাগুড়ির একজন ও মাল্লাগুড়ির পাঁচজন রয়েছেন। এঁদের জন্যও যৌথ সমীক্ষা করা হয়েছে।    
সম্পর্কিত সংবাদ