Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতীয় সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, অবশেষে লিখিতভাবে স্বীকারোক্তি দিল কর্তৃপক্ষ 

জাতীয় সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, অবশেষে লিখিতভাবে স্বীকারোক্তি দিল কর্তৃপক্ষ 
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
দীপন ঘোষাল, রানাঘাট:‘ত্রুটি-বিচ্যুতি’ কথাটা সাধারণত অল্প ভুলের জন্যই ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু, তড়িঘড়ি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কাজ শেষ করতে গিয়ে ঢালাও বিচ্যুতি এখন যেন সিপিএমের ঐতিহাসিক ভুলের সমতুল্য। এতদিন মুখে সেই ভুলের কথা স্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত তা কাগজে কলমে স্বীকার করল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের যৌথ বৈঠকে ‘মিনিটস’ সইয়ের মাধ্যমে মোট ৯টি নির্মাণ-ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, ভুল শোধরাতে প্রয়োজন কোটি কোটি টাকা। তাই বাস্তবায়ন নিয়ে ধোঁয়াশা থাকছেই। 
Advertisement
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ছিল অন্যতম নির্বাচনী ইস্যু। সেই সময় তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকারকে ভোটে সুবিধা পাইয়ে দিতে ‘স্টান্ট’ হিসেবে তড়িঘড়ি কাজ হচ্ছে। রাজ্যের শাসকদলের সেই দাবি যে খুব একটা অমূলক নয়, তার হাতে গরম প্রমাণ মিলেছে বছর ঘোরার আগেই। কখনও বর্ষায় ভাসছে ফুলিয়া আন্ডারপাস, তো কখনও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ডুবছে রানাঘাট শহরের একাধিক ওয়ার্ড। নীল নকশায় ‘ভয়াবহ’ ত্রুটি শান্তিপুরের কাছে। জাতীয় সড়ক থেকে শান্তিপুর শহরে ঢোকার কার্যত কোনও রাস্তাই নেই! ঢালাও নির্মাণ-ত্রুটি নিয়ে একপ্রকার মাথায় হাত পড়ে জেলা প্রশাসনের। যেহেতু রানাঘাট মহকুমার মধ্যেই অধিকাংশ নির্মাণ গলদ, তাই জেলাস্তর থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয় রানাঘাটের মহকুমা শাসক ভরত সিং-কে। সেইমতো নভেম্বরের ৩ তারিখ, মহকুমা প্রশাসনের একাধিক পদস্থ কর্তা, রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান ও ইঞ্জিনিয়ার, রানাঘাট-১ এবং শান্তিপুরের বিডিওরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ছিলেন প্রজেক্ট ডিরেক্টর নিজেও। সেই বৈঠকেই পাঁচদফা ‘মিনিটস’ নথিবদ্ধ হয়েছে রানাঘাটের মধ্যে। বাকি চার দফা শান্তিপুরের মধ্যে।
কী কী রয়েছে তাতে? জাতীয় সড়ক থেকে শান্তিপুর শহরে ঢোকার কোনও রাস্তাই না থাকা, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় অপরিকল্পিত বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ, নির্মাণ ত্রুটির কারণে কড়াইয়ের মতো হয়ে যাওয়া ফুলিয়া আন্ডারপাসে জমা জলের সমস্যার মতো বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।
১২ নম্বর জাতীয় সড়ক রানাঘাট শহরের বুক চিরে গিয়েছে। ফলে শান্তিপুরের চেয়ে রানাঘাটের সমস্যা আরও ভয়ানক। জাতীয় সড়ক পৌঁছনোর জন্য ১৭টি বিটুমিনাস রাস্তা না থাকা, নিকাশি ব্যবস্থা না থাকার কারণে রানাঘাট শহরের একাধিক জায়গায় জমা জলের সমস্যা সহ পাঁচটি বিষয় উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস ‘লিখিত’ আকারে প্রথমবারের জন্য দিয়েছে। 
প্রশাসনিকস্তরে ঠিক হয়েছে, যৌথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাকি সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা হবে। আজ, বুধবার সেই পর্যবেক্ষণ হওয়ার কথা। কিন্তু, আশ্বাস মিললেও আশঙ্কা মিটছে না। কারণ, প্রশাসনের একটা অংশ মনে করছে এরমধ্যে বেশকিছু এমন ত্রুটি রয়েছে, যেগুলির সংশোধনে আবার কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হবে। তাই নীল নকশার এই ভুল আদৌ ভবিষ্যতে ‘পরিবর্তন’ হবে তো? সংশয় রয়েই গেল।
সম্পর্কিত সংবাদ