Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতীয় পুরস্কারের জন্য দু’জন আধিকারিকের নাম মনোনীত

জাতীয় পুরস্কারের জন্য দু’জন আধিকারিকের নাম মনোনীত
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকার পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনে অভিনব কাজের নিরিখে পুরুলিয়া জেলার দু’জন আধিকারিককে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত করল শিক্ষাদপ্তর। পুরুলিয়ার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) এবং একজন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের নাম প্রস্তাব করল রাজ্য প্রশাসন। এছাড়াও মালদা জেলার দু’জন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং পশ্চিম বর্ধমান ও হুগলি জেলার একজন করে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের নামও ওই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে রাজ্য সরকার। পুরুলিয়া জেলার দু’জন আধিকারিক ওই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ায় খুশির হাওয়া জেলার শিক্ষা মহলে। 
Advertisement
জেলা শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে,  ৬৫ তম জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেন পুরুলিয়ার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রাথমিক প্রলয়েন্দু ভৌমিক ও পুরুলিয়ার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজয় বসু। জেলাতে শিক্ষার বিস্তারে উদ্ভাবনী কাজের জন্য  প্রলয়েন্দুবাবুর কাজ রাজ্যের নজরে আসে। অন্যদিকে এই জেলারই বিভিন্ন প্রান্তের ৬টি প্রাথমিক স্কুলকে নিয়ে জেলা বিদ্যালয় সংসদের ‘চাঁদের আলো’ প্রজেক্টের নেতৃত্ব দেওয়ার সুবাদে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজয় বসু ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নিপার অ্যাওয়ার্ড ফর ইনোভেশন অ্যান্ড গুড প্রাকটিস ইন এডুকেশনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর জন্য রাজ্য থেকে দ্বিতীয় শিক্ষা আধিকারিক হিসেবে মনোনীত হন। রাজ্যস্তরের যে ৬ জনের তালিকা প্রকাশ পেয়েছে, তাঁর প্রথম দু’টি স্থানেই পিছিয়ে পড়া জেলার দুই আধিকারিকের নাম প্রকাশ পেতেই জেলার শিক্ষা মহলে খুশির হাওয়া দেখা গিয়েছে। জেলার এই দুই আধিকারিক ছাড়াও অন্যান্য জেলার ৪ জন অবর বিদ্যালয় পারিদশক এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তাঁরা হলেন হুগলি থেকে গৌরব চক্রবর্তী, পশ্চিম বর্ধমান থেকে রীতা পথিক ঘোষ ও মালদা থেকে রীতা চৌধুরী ও ভারত ঘোষ। 
এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রলয়েন্দু ভৌমিক বলেন,  রাজ্য থেকে মনোনয়ন এসেছে। জাতীয় স্তরে কী হয় সেদিকে সবার নজর রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ প্রশাসনিক স্তরে বিভিন্ন কাজের নিরিখেই এই মনোনয়ন এসেছে বলে মনে হয়। একদিকে যেমন পুরুলিয়া জেলাতে স্কুল বিল্ডিং না থাকা বিভিন্ন স্কুলে নতুন স্কুল ভবন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তেমনি আবার বয়স্ক সাক্ষরতার ক্ষেত্রেও জেলার মানবাজার এবং ঝালদা মহকুমা স্তরে ভালো কাজ হয়েছে। বয়স্ক সাক্ষরতা কেন্দ্র চালু করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও পুরুলিয়া জেলাতে বেশ কিছু সাঁওতালি মিডিয়ামের স্কুলের পঠন-পাঠন চালু করা সম্ভব হয়েছে। জাতীয় স্তরে কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে রাজ্য আমাদের নাম মনোনীত করায় কাজের দায়িত্ব বেড়ে গেল। 
এ বিষয়ে সহকারী বিদ্যালয়ে পরিদর্শক সুজয় বসু বলেন, স্কুলগুলিতে ঠিকমতো পরিদর্শন করা সম্ভব হলে স্কুলের পঠন-পাঠন সহ বিভিন্ন স্তরের মান যে উন্নত করা সম্ভব, তা দেখা গিয়েছে। জেলার মধ্যে ছ’টি স্কুলে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার মান যেমন বেড়েছে, তেমনি উপস্থিতির হারও বেড়েছে। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের দিয়ে স্কুলগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে এই সফলতা এসেছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ