Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জরুরি অবস্থায় রোগীকে রেফার সমন্বয় ব্যবস্থা চালুর দাবি পুরুলিয়ায়

জরুরি অবস্থায় রোগীকে রেফার সমন্বয় ব্যবস্থা চালুর দাবি পুরুলিয়ায়
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানবাজার: চিকিৎসা ব্যবস্থায় পুরুলিয়ায় ‘সেন্ট্রাল পেশেন্ট রেফার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর দাবি উঠল। রোগীর পরিজনদের হয়রানি মেটাতে এবং রোগীর জরুরিকালীন সঠিক চিকিৎসা পেতে এই পরিষেবার দাবি জানানো হয়েছে। এ নিয়ে পুরুলিয়ার সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসন ও দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপির কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। এর লক্ষ্য পুরুলিয়ার গ্রামীণ হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করে এই পরিষেবা চালু করা। জেলাবাসীর দাবি, এই পরিষেবা চালু হলে পুরুলিয়ার মতো জায়গায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, অনলাইন রেফার সিস্টেম চালু হলে যে কোনও মেডিকেল কলেজের ডাক্তাররা বুঝতে পারবেন, কোন বিভাগের কয়টি বেড ফাঁকা আছে। একইভাবে মহকুমা বা গ্রামীণ হাসপাতালগুলো এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলে সেখানকার চিকিৎসকরাও বুঝতে পারবেন কোন কোন মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে বেড ভ্যাকেন্সি কত রয়েছে। এই পরিষেবা পুরুলিয়ার মতো জায়গায় চালু হলে উপকৃত হবেন বহু মানুষ ও রোগীর পরিবার। এতে জরুরিকালীন অবস্থার রোগীদের সঠিক জায়গায় রেফার করতে পারবেন চিকিৎসকরা। 
সেন্ট্রাল পেশেন্ট রেফার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আসলে কী? উদাহরণ স্বরূপ ধরা যাক, মানবাজার বা বান্দোয়ান গ্রামীণ হাসপাতালে সেরিব্রাল স্ট্রোকের কোন রোগী এলেন। বর্তমানে চিকিৎসকরা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা করে যে কোনও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেক্ষেত্রে পেশেন্ট পার্টিও এমন পরিস্থিতিতে চিন্তাভাবনার মধ্যে পড়ে যান। কোথায় যাব, কী করব! কিন্তু অনলাইন রেফার সিস্টেম চালু হলে ওই নির্দিষ্ট হাসপাতালের ডাক্তাররা বুঝতে পারবেন পেশেন্টকে কোন মেডিকেল কলেজে রেফার করতে হবে। কোথায় পাঠালে জরুরিকালীন রোগী তাড়াতাড়ি চিকিৎসা পাবেন। সে ক্ষেত্রে গ্রামীণ হাসপাতালের ডাক্তাররা অনলাইন আলোচনার মাধ্যমে রোগীকে প্রাথমিক ওষুধপত্র দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল কলেজে পাঠানোর ব্যবস্থা নেবেন। ওই নির্দিষ্ট গ্রামীণ হাসপাতালের ডাক্তারের কাছ থেকে রোগীর আত্মীয়রা একটি চিরকুট পেয়ে যাবেন। যাতে নির্দিষ্ট একটি মেডিকেল কলেজের রেফার করা সেখানকার বেড নম্বরও লেখা থাকবে। রোগীকে নিয়ে সেখানে গেলেই চটজলদি ভর্তি হয়ে যাবেন। রোগী ও পরিজনদের কোনও ভোগান্তি হবে না। আগে কী হতো? মানবাজার বা বান্দোয়ানের গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে কোনও ইমার্জেন্সি রোগীকে ডাক্তাররা বাঁকুড়ায় রেফার করলে সেখানে গিয়ে দেখা যেত, ওই বিভাগের বেড ফাঁকা নেই। তাই ইমারজেন্সিতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পেতে দেরি হতো। বর্তমানে সেই ঝামেলা থাকবে না। ইতিমধ্যেই এই পরিষেবা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় চালু রয়েছে। পুরুলিয়ায় এই পরিষেবা দ্রুত চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পুরুলিয়ার বাসিন্দা তথা স্বাস্থ্যকর্মী অভয় মাহাত বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পুরুলিয়া গভঃ মেডিকেল কলেজের এমএসভিপিকে জানিয়েছি। পুরুলিয়া জেলায় এই সিষ্টেম চালু হলে উপকৃত হবেন পুরুলিয়ার বিভিন্ন রোগী ও তাঁদের পরিবার পরিজন। চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির জন্য অবিলম্বে পুরুলিয়ায় এই ব্যবস্থা চালু হওয়া প্রয়োজন। পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি সুকমল বিষয়ী বলেন, পরিষেবা চালুর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যদপ্তরে কথা বলা হয়েছে। যাতে এখানে পরিষেবা চালু করা যায় তার চেষ্টা করব।
সম্পর্কিত সংবাদ