Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জীর্ণ রান্নাঘর, বন্ধ মিড ডে মিল সরব হতেই ২ শিক্ষককে বদলি

জীর্ণ রান্নাঘর, বন্ধ মিড ডে মিল সরব হতেই ২ শিক্ষককে বদলি
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: স্কুলের রান্নাঘরের জরাজীর্ণ অবস্থা। তিন মাস ধরে বন্ধ ছিল মিড ডে মিল। এনিয়ে বিডিও থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের বহুবার আবেদন করেছিলেন স্কুলের দুই শিক্ষক। প্রশাসন পদক্ষেপ না করায় কার্যত সংঘাতেও জড়িয়ে পড়েছিলেন দুই শিক্ষক। তাঁদের লাগাতার ‘আন্দোলনে’ সম্প্রতি জীর্ণ রান্নাঘরের সংস্কার শুরু হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, ‘শাস্তি’ হিসাবে বদলি করা হয়েছে দুই শিক্ষককেই। স্কুলের সহ শিক্ষক সুশান্ত পাত্রকে বাড়ি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে, এবং প্রধান শিক্ষক তুলসীপদ রুইদাসকে ৪০ কিলোমিটার দূরে বদলি করা হয়েছে। পুরুলিয়ার বরাবাজারের হারামডি স্কুলের এই ঘটনার প্রতিবাদে স্কুল বয়কট করেছেন পড়ুয়ারা। 
Advertisement
ঘটনার সূত্রপাত বছর খানেক আগে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বরাবাজারের বিডিও ও বরাবাজার-২ নম্বর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে (এসআই) একটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় স্কুলের তরফে। অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই স্কুলের রান্নাঘরের ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়ছে। এনিয়ে পদক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি। এরপর চলতি বছরের ৩১ জুলাই লাগাতার বৃষ্টির জেরে স্কুলের ছাদ ফুটো হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় মিড ডে মিলের রান্না। পরের দিনই ফের বিডিও, এসআই, মিড ডে মিল ইনচার্জকে চিঠি পাঠানো হয় স্কুলের তরফে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এরপর থেকে সাতদিন রান্না বন্ধ ছিল। বাইরে রান্না করতে চাইলেও গ্রামের বাসিন্দারা বাইরে রান্না করতে দেয়নি। খবর পেয়ে গ্রামে আসেন আবার বিদ্যালয় পরিদর্শক ও মিড ডে মিল ইনচার্জ। গ্রামের বাসিন্দা শামসুদ্দিন আনসারি, নির্মল মাহাত, অর্জুন সর্দাররা বলেন, আধিকারিকরা ১৫ দিনের মধ্যে রান্নাঘর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। রান্না চালু হয়। কিন্তু ১৫ দিনের মধ্যে সংস্কার না হওয়ায় ২২ আগস্ট থেকে ফের রান্না বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই।’ এদিকে, স্কুলের মিড ডে মিল বন্ধ থাকায় প্রশাসনের তরফে স্কুলের দুই শিক্ষককে শো কজ করা হয়।
এরপর অক্টোবরের শেষের দিকেও গ্রামবাসীদের তরফে রান্নাঘরের সংস্কার চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ না হওয়ায় গত ১৯ নভেম্বর স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেন গ্রামবাসীরা। তাতেই হুঁশ ফেরে প্রশাসনের। সম্প্রতি রান্নাঘর সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এরপরেই গত ২৫ তারিখ স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বলরামপুর দু’ নম্বর চক্রের একটি স্কুলে এবং সহ শিক্ষককে রঘুনাথপুর দু’ নম্বর চক্রের একটি স্কুলে বদলি করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের ফোন বন্ধ ভাকায় এনিয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহ শিক্ষক সুশান্তবাবু বলেন, ‘গত এক বছর ধরে স্কুলের রান্নাঘর সংস্কারর জন্য আবেদন করে যাচ্ছি। কিন্তু তাঁরা কোনও ব্যবস্থাই নিলেন না। স্কুলের ভালো করতে গিয়ে আমাদের খারাপ হল।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রাজীবলোচন সরেন অবশ্য বলেন, ‘আমরা সংস্কারের জন্য টাকা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষকরা ফিরিয়ে দিয়েছেন। ওই দুই শিক্ষকের মদতেই এতদিন মিড ডে মিল বন্ধ ছিল। শিক্ষকদের কাজ সমাজ গড়া। কিন্তু এরকম অমানবিক কাজ কেন করলেন তাঁরা?’ পাল্টা শিক্ষকদের যুক্তি, ‘গোটা রান্নাঘরের যেখানে বেহাল অবস্থা, সেখানে মাত্র ১০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল। আমরা তো একবছর ধরে সংস্কারের আবেদন করে আসছিলাম। এতদিনে কেন তা হল না?’
সম্পর্কিত সংবাদ