Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জোর করে ধলতা বাদ দিলেই ব্যবস্থা: ডিএম

জোর করে ধলতা বাদ দিলেই ব্যবস্থা: ডিএম
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: চাষিদের জন্যই সরকার ধান কিনছে। ফলে জোর করে ধান থেকে ধলতা বাদ দেওয়া যাবে না। সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কেনার ক্ষেত্রে মানতে হবে সরকারি নির্দেশিকা। বজায় রাখতে হবে স্বচ্ছতা। সরকারি ধান্য ক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকদের এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন। সম্প্রতি জেলাশাসক বাঁকুড়া-১, ২ ও গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের একাধিক ধান্য ক্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। হাতে ধান নিয়ে গুণগত মান পরীক্ষার পাশাপাশি ওজন ও আর্দ্রতা পরিমাপ পদ্ধতিও জেলাশাসক খতিয়ে দেখেন। তারপর তিনি দপ্তরের আধিকারিকদের ‘চাষি সহায়ক’ অবস্থান নেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দেন।
Advertisement
বাঁকুড়া জেলা খাদ্য নিয়ামক শেখ আলিমুদ্দিন বলেন, চাষিরা যাতে ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, তারজন্যই সরকার সহায়ক মূল্যে ধান কিনছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ধান সংগ্রহ করার জন্য জেলাশাসক নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ধলতা বা আর্দ্রতার নাম করে যাতে বেশিমাত্রায় ধানের ওজনে কাটছাঁট করা না হয়, তা আমাদের তিনি দেখতে বলেছেন। আমরাও সেইমতো অধঃস্তনদের নির্দেশ দিয়েছি। 
তিনি আরও বলেন, ধান কেনার পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে বলা হয়েছে। সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য প্রতিটি ব্লকে তিনজনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সহকারী কৃষি অধিকর্তা, বিডিও-র প্রতিনিধি ও রাইস মিল মালিকদের প্রতিনিধি থাকবেন। সেখানে চাষিরা অভিযোগ জানাতে পারেন। তারপরেও ধলতা বা আর্দ্রতা ইস্যুতে কারও কোনও আপত্তি থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা সংশ্লিষ্ট চাষির ধানের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে দেব। 
প্রসঙ্গত, ধলতা নিয়ে চাষিদের অভিযোগের শেষ নেই। অভিযোগ, খাদ্য দপ্তরের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে চাষিদের হয়রানি করে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা ধানের আর্দ্রতার নাম করে বেশি করে ধান নিয়ে নেন। রোদে শুকিয়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরেও ধানের ওজন কমিয়ে লেখা হয়। তারফলে চাষিদের ক্ষতি হয়। ধলতার নাম করেও ওজনে কাটছাঁট করা হয়। ধুলো সহ অন্যান্য সামগ্রী ধানে মিশে রয়েছে বলে চাষিদের জানিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ওজন করার সময় বেশ কয়েক কেজি বাদ দেওয়া হয়। বাড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া ও নানা ঝক্কি সামলে কিষান মান্ডি বা অন্যান্য সরকারি ধান্য ক্রয় কেন্দ্রে পৌঁছনোর পর আর কেউ ধান নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে চান না। ফলে তাঁরা একপ্রকার বাধ্য হয়ে সব শর্ত মেনে নেন। তবে এনিয়ে চাষিদের মধ্যে ধান কেনার মরশুমে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়। মাঝেমধ্যেই সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তখন ধান ক্রয় কেন্দ্রে চাষিরা বিক্ষোভ দেখান।      
জেলা খাদ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ধান দেওয়ার পর রাইস মিল থেকে সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল বুঝে নেয়। ফলে সেদিকটাও আমাদের দেখতে হয়। ধান ওঠার সময় আর্দ্রতা বেশি থাকে। তবে আমরা ১৭ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা ছাড় দিচ্ছি। তারপর ওজন থেকে বাদ দেওয়া হবে। চাষিরা ধান ঝাড়াই-বাছা‌‌ই করে আনলে ধলতা বাদ দেওয়া হবে না।
সম্পর্কিত সংবাদ