Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জয়পুরে শালবন ঘেরা নতুনগ্রামের মডেল ভিলেজের স্বপ্ন অধরা, ক্ষোভ  

জয়পুরে শালবন ঘেরা নতুনগ্রামের মডেল ভিলেজের স্বপ্ন অধরা, ক্ষোভ
 
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: এই গ্রামে সূর্য ওঠে বেলায়। আবার দিনের শেষ হওয়ার আগেই নেমে আসে অন্ধকার। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও তা সত্যি। সৌজন্যে ঘন ‘শালবন’। জয়পুর ব্লকে গভীর জঙ্গলের ভিতরে এমন একটি গ্রামকে বেছে নিয়ে কয়েক বছর আগে মডেল ভিলেজ গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১০০ শতাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস ওই গ্রামে। গ্রামের নাম ‘নতুনগ্রাম’। পুকুর সংস্কার করে সেখানে ফুলের বাগান তৈরির কিছু কাজ এগিয়েও ছিল। কিন্তু, তারপর কোনও কারণে তা থমকে গিয়েছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মডেল ভিলেজে পর্যটকদের জন্য একাধিক হোম স্টে ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু, তা অধরাই রয়ে গেল। জয়পুরের বিডিও দেবজ্যোতি পাত্র বলেন, মডেল ভিলেজ গ্রাম তৈরির কাজ কেন বন্ধ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখব।
Advertisement
কোতুলপুরের বিধায়ক হরকালী প্রতিহার বলেন, নতুনগ্রামকে মডেল ভিলেজ গড়ার উদ্যোগের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। প্রয়োজনে ওই গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। 
বিষ্ণুপুর-জয়পুর মেন রাস্তায় তাঁতিপুকুর ক্যানেল মোড়। সেখান থেকে ক্যানেলপাড় ধরে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে গেলেই ক্যানেলের উপর একটি সেতু রয়েছে। ওই সেতু দিয়ে ক্যানেলের উল্টো পাড় ধরে আরও ৫০০মিটার গেলেই নতুনগ্রাম। চারদিকে ঘন শাল জঙ্গলে ঘেরা এবং বুনো হাতিদের যাতায়াতের পথেই রয়েছে ওই গ্রাম। ৩৩টি আদিবাসী পরিবার রয়েছে সেখানে। শালজঙ্গলে আড়াল হওয়ায় সকালে বেশ কিছুটা বেলা হলে গাছের মাথায় সূর্য উঠলে তবেই গ্রামে রোদ আসে। আবার বিকেলে অস্ত যাওয়ার আগেই সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়লে শালগাছের আড়াল হয়। তখনই আবছা অন্ধকার নেমে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এমন একটি গ্রামকে বেছে নিয়ে কয়েক বছর আগে আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য গ্রামে একাধিক কটেজ তৈরি করে হোম স্টে বানানোর পরিকল্পনা হয়। শুধু তাই নয়, বাসিন্দাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য একটি পুকুর খনন করা হয়। সেখানে মাছ চাষ, হাঁসের চাষ, শুয়োর, ভেড়া, ছাগল ও মুরগি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 
স্থানীয় বাসিন্দা সুকুরাম মুর্মু বলেন, মডেল ভিলেজ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য প্রায় ১৫বিঘা আয়তনের একটি পুকুর খনন করা হয়। ফুলের বাগান তৈরি করা হয়। কিন্তু, পরিচর্যার অভাবে বাগান নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বর্ষার জল ঢোকার কোনও রাস্তা না থাকায় পুকুর সারাবছর শুকনো থাকে। এছাড়াও হোম স্টে গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পঞ্চায়েত থেকে গ্রামের ফুটবল মাঠে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরি করা হয়। ওই সময় বড় বড় বাবুরা গ্রামে যাতায়াত করছিলেন। কিন্তু, তারপর প্রকল্প থমকে যায়। তাতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। চাষের জমি খনন করে পুকুর তৈরি করা হয়েছে। যাঁরা সেখানে চাষবাস করছিলেন, তাঁরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। 
গ্রামের স্নাতক পাশ যুবক জগৎপতি মুর্মু বলেন, আদর্শ গ্রাম হওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখেছিলাম। গ্রামের মহিলারাও হোম স্টে’তে পর্যটকদের পরিষেবা দিয়ে এবং সাংস্কৃতিক মঞ্চে নৃত্য পরিদর্শন করে বাড়তি আয়ের রাস্তা দেখেছিলেন। কিন্তু, পরবর্তীকালে তা থমকে যাওয়ায় আমাদের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল।
সম্পর্কিত সংবাদ