Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জয়পুরে পরীক্ষার দিনই আত্মঘাতী উচ্চমাধ্যমিকের মেধাবী ছাত্রী

জয়পুরে পরীক্ষার দিনই আত্মঘাতী উচ্চমাধ্যমিকের মেধাবী ছাত্রী
  • ৪ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মেধাবী ছাত্রী। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য দু’বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু, পরীক্ষার দু’দিন আগে থেকেই তিনি শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্রাস করে মানসিক অবসাদ। সেই অবসাদ থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে জীবনই শেষ করে দিলেন জয়পুরের ছাত্রী বর্ষা দে (১৮)। পরীক্ষার প্রথম দিন, সোমবার সকালে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। বাড়ি জয়পুরের কারকবেড়িয়া গ্রামে। 
Advertisement
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসেছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর দৌড়ে গিয়ে পাশের ঘরে ঢুকে দরজায় ভেতর থেকে খিল দিয়ে দেন। ডাকাডাকি করেও সাড়া মেলেনি। শেষে দরজা ভাঙতেই পরিবারের লোকেরা তাঁকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কোতুলপুর গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। আকস্মিক ওই ঘটনায় গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 
বর্ষার এক কাকা সুভাষ দে বলেন, ‘ভাইঝি পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল। সে স্কলারশিপের টাকাও পাচ্ছিল। এমনকি, টেস্ট পরীক্ষাতেও ভাল রেজাল্ট করেছিল। কিন্তু পরীক্ষার দু’তিন দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আদৌ পরীক্ষায় বসতে পারবে কিনা, চিন্তায় পড়ে  যায়। সবসময় মনমরা হতে থাকত। আমরা সাহস জুগিয়েছিলাম। পই পই করে বুঝিয়েছিলাম। সারাবছর পড়াশোনা করেছিস। পরীক্ষা ভালোই হবে। চিন্তা করিস না। কিন্তু তা সত্ত্বেও হঠাৎ এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে, তা আমরা বুঝতে পারিনি।’ 
ছাত্রীর মামা কোতুলপুরের মালিকোটা গ্রামের বাসিন্দা সমির মণ্ডল বলেন, ‘রবিবার বেলা দশটার সময় ভাগনি আমাকে ফোন করে জানায়, ওর গায়ে জ্বর ও বমি বমি ভাব ও ক্ষুদামন্দা রয়েছে। আমি ওকে আমাদের গ্রামে নিয়ে এসে ডাক্তার দেখিয়ে বিকেলে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসি। রাতেও ফোনে কথা হয়েছিল। তখন সে বলল শরীর আগের চেয়ে ভালো লাগছে। তবুও আমি বলেছিলাম, আমি পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে আসব। কিন্তু ও বলল ওর এক বান্ধবীর সঙ্গে চলে যাবে। তাই আমি কিছুটা নিশ্চিত হই। কিন্তু সোমবার সকালে এরকম দুর্ঘটনার খবর পাই। শরীর খারাপ হওয়ায় পরীক্ষা খারাপ হবে ভেবেই এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আমাদের মনে হয়।’  পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার বাবা কয়েকবছর আগে মারা গিয়েছেন। তাঁরা দুই বোন। বড়ো দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে মা ও মেয়ে থাকতেন। বর্ষা টানাদিঘী হাইস্কুল থেকে এবারে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতেন। সিট পড়েছিল রাজগ্রাম হাইস্কুলে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ