Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জয়পুর ও বিষ্ণুপুরের তিন যুবক প্রতারিত

জয়পুর ও বিষ্ণুপুরের তিন যুবক প্রতারিত
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনায় মোটা টাকা লোন পাইয়ে দেওয়া হবে। ব্যাঙ্কের অফিসার পরিচয় দিয়ে এমনই টোপ দেওয়া হয়। সেই ফাঁদে পা দিয়েই জয়পুর ও বিষ্ণুপুরের তিন যুবক খোয়ালেন প্রায় সাত লক্ষ টাকা। দুর্গাপুরের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারিতদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি জয়পুরের একটি রিসর্টে এসে ধাপে ধাপে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গিয়েছে। লোন তো দূরের কথা পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছেন। জয়পুর থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। 
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের বেনাচিতি এলাকার এক বাসিন্দা নিজেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লোন অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফোন করে। জয়পুর থানা এলাকার দুই যুবক এবং বিষ্ণুপুরের রাধানগর এলাকার এক যুবককে প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনায় লোন পাইয়ের দেওয়ার কথা বলা হয়। তাঁদের ১৫ লক্ষ টাকা করে লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই সঙ্গে ৩০ শতাংশ অনুদানও দেওয়া হবে বলে জানায়। তার কাগজপত্র তৈরি করতে প্রত্যেককে প্রথমেই ২০হাজার দিতে হবে বলে জানায়। তাতে রাজি হওয়ায় জয়পুরে একটি রিসর্টে এসে ওই ব্যক্তি তিনজনের কাছ থেকে ২০হাজার টাকা করে নিয়ে যায়। এক সপ্তাহ পরে সে বলে, লোনের কাগজপত্র রেডি হয়ে গিয়েছে। লোন ছাড়তে গেলে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে দু’লক্ষ টাকা করে ঘুষ দিতে হবে। না দিলে লোন পাওয়া যাবে না। এমনকী কাগজপত্র রেডি করার জন্য নেওয়া ২০ হাজার টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না। এরপর তিনজনেই ধারদেনা করে টাকা করে জোগাড় করেন। একই রিসর্টে গিয়ে অভিযুক্তের হাতে টাকা তুলে দেন। পরে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা অজুহাত দেখায়। একসময় মোবাইল বন্ধ করে দেয়। সন্দেহ হওয়ায় ওই যুবকরা ব্যাঙ্কে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের নামে এরকম কোনও লোনের প্রস্তাব ব্যাঙ্কে আসেনি। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তাঁরা জয়পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 
প্রতারিতরা বলেন, সরকারি স্কিমে লোন পেতে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে ব্যাঙ্কের লোন অফিসার বলে পরিচয় দেওয়ায় তা পাওয়ার ব্যাপারে আশা জাগে। শুধু তাই নয়, পিএমআরওয়াই  নামে প্রকল্পটি নাকি প্রধানমন্ত্রী নতুন বের করেছেন। তাতে লোন দেওয়ার টার্গেট ও সময় বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু, এত কম সময়ে লোনের পর্যাপ্ত আবেদনকারী পাওয়া যায়নি। সেই জন্য ফোন করে গ্রাহক জোগাড় করা হচ্ছে বলে জানায়। সেকথা বিশ্বাস করে আমরা প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই। জয়পুরের একটি রিসর্টে এসে ধাপে ধাপে একজনের কাছ থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, অপরজনের কাছে ২লক্ষ ৭১হাজার টাকা এবং তৃতীয়জনের কাছ থেকে ২লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। আমাদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এভাবে প্রতারণা করবে, তা বুঝতে পারিনি।
সম্পর্কিত সংবাদ