সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: দোতলা স্কুলভবনে নিয়মিত বসছে মদের আসর। গ্রামের পাশাপাশি আশপাশের গ্রাম থেকেও সেখানে মদ্যপরা আসছে। সেইসঙ্গে জমিয়ে তাস খেলা চলছে। প্রায় সাতবছর ধরে পড়াশোনার বদলে এমনই ছবি দেখা যায় ডিমডিহা গার্লস জুনিয়র হাইস্কুলে। তাড়াতাড়ি ওই স্কুলে মদের আসর বসানো বন্ধ করে পড়াশোনা শুরু করার দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দা ও জমিদাতারা।
Advertisement
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগে পুরুলিয়া জেলায় কাজে যোগ দিয়েছি। এখনও বিষয়টি জানি না। এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরুলিয়ার জয়পুর থানা এলাকায় এই স্কুলটি ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকায় তৈরি হয়। পরে ২০২১-২২ সাল নাগাদ স্কুলে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকায় শৌচাগার তৈরি হয়। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিমডিহা গার্লস জুনিয়ার হাইস্কুলের পঠনপাঠন শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নতুন দোতলা স্কুলভবনে পঠনপাঠন কোনওদিন হয়ইনি। বহুদিন ধরে ওই স্কুলের দরজা-জানালা খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে বেশ কিছু লোকজন স্কুলভবনে মদের আসর বসান। ভবনের ভিতর যেখানে সেখানে মদের বোতল ছড়িয়ে থাকে। এলাকার বাসিন্দা তথা ওই স্কুলের জমিদাতা কনিলাল মাহাত বলেন, এলাকায় মেয়েদের পড়াশোনার মানোন্নয়নের জন্যই বহু চেষ্টা করে ওই স্কুল তৈরি হয়েছিল। ২০১৩সালে স্কুলের জন্য জমিদান করেছিলাম। ২০১৭ সালে স্কুল ভবন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে পঠনপাঠন শুরু হল না। স্কুলের এখনকার অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগে। কিন্তু আমি এখনও আশাবাদী, একদিন না একদিন এই স্কুলে পঠনপাঠন শুরু হবে। অপর জমিদাতা সনাতন মাহাত বলেন, স্কুলে আসার রাস্তার জন্য প্রায় ১০ ডেসিমেল জায়গা দান করেছিলাম। কেন স্কুলটি চালু হল না জানি না। দুপুরে স্কুলভবনে গোরুছাগল ঢুকে যায়। সন্ধ্যায় গ্রামের ও বাইরের কয়েকজন এসে মদের আসর বসায়। সামনে থাকলে মাঝেমধ্যে তাদের বাধা দিই। কিন্তু সবসময় তো পাহারা দিতে পারব না। সেটি চালু হলে গ্রামের মেয়েদের পড়াশোনায় সুবিধা হবে। এলাকার বাসিন্দা জগন্নাথ মাহাত বলেন, গ্রামের মেয়েরা কেউ ডুমুরডি, কেউ ঘাঘরার স্কুলে যায়। যারা জমি দান করলেন, তাঁদের জমিও নষ্ট হল। সরকারের টাকাও অপচয় হল।



