Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

জয় জগন্নাথ

পুরীতে রথের প্রস্তুতি শুরু হয় বৈশাখ মাসে। রোহিণী নক্ষত্র যুক্ত শুক্লপক্ষীয় অক্ষয় তৃতীয়ায় রাজা ইন্দ্রধনু শুচি হয়ে উপযুক্ত সংকল্প করে সূত্রধরকে সঙ্গে নিয়ে উত্তম বৃক্ষ পুজো করে বৃক্ষছেদনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

জয় জগন্নাথ
  • ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অরুণ মুখোপাধ্যায়: পুরীতে রথের প্রস্তুতি শুরু হয় বৈশাখ মাসে। রোহিণী নক্ষত্র যুক্ত শুক্লপক্ষীয় অক্ষয় তৃতীয়ায় রাজা ইন্দ্রধনু শুচি হয়ে উপযুক্ত সংকল্প করে সূত্রধরকে সঙ্গে নিয়ে উত্তম বৃক্ষ পুজো করে বৃক্ষছেদনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃক্ষছেদন তো শুধু করলেই হল না, তার আগে অনেক নিয়ম থাকে। অরণ্যমধ্যে মন্ত্রপাঠ, আগুন জ্বালা, ঘি দিয়ে ১০৮ আহুতি প্রদান, বৃক্ষগাত্রে ও বৃক্ষমূলে ঘৃতধারা প্রদান বৃক্ষপুজোর অঙ্গ। তারপর দিকপাল, ক্ষেত্রপালকে পুজো করতে হয়। গরুড়ধ্বজ শ্রীকৃষ্ণকে মনে মনে চিন্তা করে কুঠার নিয়ে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন উপযুক্ত মন্ত্র-উচ্চারণের মাধ্যমে ঘৃতধারায় স্নাত বৃক্ষমূলকে একটু একটু করে কাটায় উদ্যোগী হয়েছিলেন। তখন চারিদিকে মঙ্গলধ্বনি। এরপরই আচার্য সূত্রধরকে বৃক্ষ ছেদনের নির্দেশ দেন।

Advertisement

বৃক্ষছেদনের পর শুরু হয় রথ গঠন উৎসব। আষাঢ় মাসে, শুক্লপক্ষীয় পুষ্যানক্ষত্রযুক্ত দ্বিতীয়ায় সূর্যোদয়কালে শ্রীজগন্নাথের অর্চনা হয়। সূচনা হয় রথযাত্রার। পুরাকালে নৃপতি ইন্দ্রদ্যুম্ন যেভাবে যে নির্দেশে রথযাত্রা সম্পন্ন করেছিলেন, সেই ঈশ্বর প্রেরিত নির্দেশেই এখনও রথযাত্রার নিয়ম মানা হয়। রথে চড়ে শ্রীজগন্নাথদেবের গুণ্ডিচামণ্ডপ যাত্রায় জগন্নাথের জয়ধ্বনিতে দশ দিক পবিত্র হয়। চরাচর কল্যাণময় মোক্ষপদ লাভ করে। 
‘অবতারঃ কৃতো হ্যেষ লোকানুগ্রহকাম্যয়া। 
তদেহি ভগবন্ প্রীত্যা চরণং ন্যস্ত ভূতলে।।’
শ্রী ভগবান সকল লোকের প্রতি অনুগ্রহ কামনায় এই অবতার মূর্তি পরিগ্রহ করেছেন। হে ভগবান! আপনি প্রসন্ন হোন। ভূতলে চরণ ন্যস্ত করে আপনি আবির্ভূত হোন। 'উৎকলখণ্ডম্'-এ আছে, 
'রাজা চতুর্ব্বিধা বর্ণা অন্যে যে চ পৃথগজনাঃ 
দীনা মহান্তশ্চ তদা সমানাস্তত্র ভান্তি বৈ।।' 
তখন রাজাপ্রজা সকলে সমান। রাজা কিংবা ব্রাহ্মণাদি চতুর্বর্ণ, দীনদরিদ্র, ধনী, নিচ ব্যক্তি সকলেই তখন সমান বলে মনে হয়। দেবতা তিনজনকে রথের কাছে বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাহকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়লে 'তুলিকাস্তর' বা তুলোর আস্তরণে দেবতাদের রক্ষা করে আবার রথের অভিমুখে নিয়ে যায়। রথের কাছে পৌঁছে গেলে মহোৎসব, মঙ্গলগীতের সূচনা হয়। তিন দেবতাকে রথে প্রবেশ করানো ও স্থাপন করা হয়। বস্ত্র, অলংকার  মালায় দেবতাদের সাজিয়ে ভক্তিপূর্ণচিত্তে পুজোপাঠ শুরু হয়। 'উৎকলখণ্ডম্' জানিয়েছে, ভগবান বিষ্ণুর এর চেয়ে উৎকৃষ্ট যাত্রা আর দৃষ্ট হয় না। স্বয়ং ত্রিলোকেশ্বর ভগবান শ্রীহরি প্রতি বছর রথে আরোহণ করে পরম কৌতূহলে গুণ্ডিচাবাড়ির দিকে যাত্রা করেন। 'রথস্থিতং ব্রজন্তং তং মহাবেদী মহোৎসবে। যে পশ্যন্তি মুদা ভক্ত্যা বাসাস্তেষাং হরে পদে।।' রথযাত্রার এই উৎসবকে শাস্ত্রে 'মহাবেদি মহোৎসব' বলা হয়েছে। মহাবেদি মহোৎসবের সময় যাঁরা রথস্থিত শ্রী ভগবানকে গমন করতে দেখেন তাঁদের বৈকুণ্ঠবাস নিশ্চিত। রথবিহার-- এই উৎসবই শাস্ত্র দর্শিত, শাস্ত্রলিখিত শ্রেষ্ঠ বিষ্ণু-উৎসব রূপে স্বীকৃত ও নন্দিত। রথের সময় দেবতারা স্বর্গ থেকে এই ক্ষেত্রে চলে আসেন ও এখানেই স্বর্গবাসের অধিকারী হন। রথোৎসবের নাম কীর্তনে শত জন্মের পাপ বিনষ্ট হয়। 
'মহাবেদীং ব্রজন্তং তং রথস্থং পুরুষোত্তমম্।            
বলভদ্রং সুভদ্রাঞ্চ  জন্মকোটিশতোদ্ভবম্।
দৃষ্ট্বা পাপং নাশয়তি নাত্র কার্য্যা বিচারণা।।" 
মহাবেদিতে যাত্রাকালে রথস্থ  পুরুষোত্তম, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে দর্শন করে মানুষ তার জন্মার্জিত কোটি শত পাপকে নষ্ট করে দেয়। এতে কিছু  বিচারের দরকার নেই। রথের ছায়া স্পর্শে ব্রহ্মহত্যার পাপ দূরে চলে যায়। পায়ে রথের রেণু লাগলে স্বর্ণগঙ্গায় স্নানে যে ফল তাই লাভ করা যায়। ভগবান জগন্নাথের গুণ্ডিচামণ্ডপ যাত্রাকালে যিনি সভক্তি 'জয় কৃষ্ণ জয় কৃষ্ণ' বলেন তাঁকে আর মাতৃগর্ভবাসের দুঃখ সহ্য করতে হয় না। সাক্ষাৎ দারু স্বরূপে রথারূঢ় জগৎপ্রভুর মহাবেদি মহোৎসবে গমন প্রকৃতপক্ষে শ্রীবিষ্ণুর সবচেয়ে বড়ো উৎসব রূপে খ্যাত। এই উৎসবের মহান সময়ে ইন্দ্র, ব্রহ্মা প্রমুখ দেবতা রথের সঙ্গে সঙ্গে গুণ্ডিচায় যান। মহাবেদি মহোৎসব তাই উৎকৃষ্টতম শুভ যোগ। সর্বপাপ-বিনাশন, সর্বতীর্থ ফলপ্রদ হল এই রথযাত্রা মহোৎসব। গুণ্ডিচা যাত্রাকালে জগন্নাথের কাছে যেসব সৎ কাজ সম্পাদিত হয়, তার সবই অক্ষয় পুণ্য বলে চিহ্নিত। শ্রী জগন্নাথদেব বলভদ্র ও সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে দশদিক উদ্ভাসিত করে রথারোহণে গমন করতে করতে তাঁর শ্রীঅঙ্গের বাতাসে যাবতীয় পাপ দূর করেন। মহাসমারোহের এই রথযাত্রায় শ্রীজগন্নাথদেব বুঝতে পারেন রথের রজ্জু আকর্ষণকারী জনগণ ও তাঁর প্রিয় ভক্ত কখন ক্লান্ত হবেন। আর ঠিক তখনই শ্রীবিষ্ণু বড়দান্ডে অর্থাৎ জগন্নাথ মন্দির থেকে গুণ্ডিচাগৃহ পর্যন্ত যে রথ চলার পথ সেখানে অচল হয়ে পড়েন। প্রভুও শ্রান্ত। তাঁর বিশ্রামের দরকার। পুষ্প, পঞ্চামৃত, কর্পূরে তাঁর অভিষেক হয়। চন্দন, কর্পূর, কস্তুরী দিয়ে প্রভুর সর্বাঙ্গ বিলেপন হয়। অভিষেক ও বিলেপন- উভয়ই প্রভুর দর্পণকে প্রতীক রূপে ধরে পবিত্র কর্মটি সম্পন্ন হয়। মিষ্টি, চিনি, সুমধুর পেয়দ্রব্য, খেঁজুর, নারকেল, কাঁঠাল, কলা, তাল আনারস, আখ, ক্ষীর থেকে তৈরি সুখাদ্য, সুবাসিত সুশীতল জল, কর্পূর, লবঙ্গ, তাম্বুল ইত্যাদি উপকরণের আয়োজনে দেবতার পুজো হয়। বলরাম সুভদ্রা ও জগন্নাথদেবের রথ গুণ্ডিচা মণ্ডপের কাছে এলে দেবত্রয়কে রথ থেকে নামিয়ে গুণ্ডিচার মনোহর অপূর্ব মণ্ডপে স্বর্ণবেদিকার উপর প্রতিষ্ঠা করা হয়। গুণ্ডিচাবাড়ির অভ্যন্তর চাঁদোয়া, মালা, চামরে আগে থেকেই সাজানো থাকে। প্রভু যেন আসার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি এসেছেন গুণ্ডিচা মণ্ডপের রত্নখচিত স্তম্ভ, সুন্দর সিঁড়ির ধাপগুলি, সুশোভিত চারটি দরজা বছরে একবারই প্রতীক্ষায় থাকে কখন তিন দেবতার আগমন ঘটবে। 'উৎকলখণ্ডম্-এর একটি শ্লোক নিবেদন করি। 
'ত্রৈলোক্যাড়ম্বরযুতে মহাবেদ্যাং মহাক্রতোঃ। প্রাদুর্ভাবো ও মহেশস্য যত্রাভূদ্দারুবর্ম্মণঃ।।' গুণ্ডিচামণ্ডপ এমন সাজানো থাকবে যেন মনে হয় ওই স্থান ত্রৈলোক্যের আড়ম্বরযুক্ত মহাযজ্ঞের মহাবেদিতেই দারুময় মহেশ্বরের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। দক্ষিণাভিমুখী দেবত্রয়ের পুনর্যাত্রা সুদুর্লভ রূপেই খ্যাত। রথযাত্রায় গুণ্ডিচা গমনের মতোই শ্রীজগন্নাথের  পুনর্যাত্রাও মুক্তিদায়ক। শ্রীজগন্নাথের শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচাবাড়ির মহাবেদিতে যাত্রা ও গুণ্ডিচা থেকে আবার নিজ মন্দিরে ফিরে আসা প্রকৃতপক্ষে একই উৎসব বলে পণ্ডিতেরা ভগবানের এই রথযাত্রা উৎসবকে 'নবদিনাত্মিকা' যাত্রায় ভূষিত করেছেন।
পুনর্যাত্রার আগের দিন গুণ্ডিচাবাড়িতে জগন্নাথ দর্শন করলে এক বছর জগন্নাথ দর্শনের ফল লাভ হয়। গুণ্ডিচামণ্ডপের অবস্থান অশ্বমেধজ সরোবর বা ইন্দ্রদ্যুম্ন সরোবর এবং নৃসিংহমন্দিরের দক্ষিণে। রথ থেকে পুনর্যাত্রা পর্যন্ত শ্রীভগবান জগন্নাথদেব গুণ্ডিচায় এলে মনে হয় তিনি নবদেহ ধারণ করেছেন। এই সময়ে নানা ভোগে, পুজো উপহারে জগন্নাথের অর্চনা করা হয়। বিন্দুতীর্থ তটে গিয়ে জগন্নাথ সাতদিন গুণ্ডিচায় অবস্থান করেন। ভগবান রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে বরদান করেছিলেন, যে, তিনি প্রতিবছর বিন্দুতীর্থতীরে সাত দিন থাকবেন এবং তাঁর উপস্থিতির জন্য সকল তীর্থই সেখানে অবস্থান করবে। যাঁরা অখিল তীর্থের চেয়েও পবিত্র গুণ্ডিচামণ্ডপে স্নান করে জগন্নাথ দর্শন করেন তাঁরা শ্রীবিষ্ণুর সাযুজ্য পাবেন।
সর্বতীর্থফলপ্রদ, সর্বপাপনাশন, বিষ্ণুপ্রীতিকর, মহাপুণ্যজনক গুণ্ডিচাতীর্থ। স্নানান্তে দেবতা ও পিতৃগণের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে নৃসিংহদেবের পুজোয় মন স্নিগ্ধ হয়। গুণ্ডিচা মণ্ডপের মহাবেদিতে  গিয়ে শরীর মন শুদ্ধ করে, পুজো, প্রণাম সেরে সারা সপ্তাহ ধরে মহাবেদিতে স্থিত জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে দর্শন করা নিয়ম। দিনে দর্শনে যা পুণ্য, রাতে ভগবান দর্শনে তার চেয়ে দশগুণ অধিক পুণ্য হয়। ভগবানের কাছে গুণ্ডিচায় কমবেশি যা-ই হোক যে কোনও  সৎকর্মে কোটি কোটি গুণ পুণ্য সঞ্চয় হয়। কেউ যদি বহু বস্তু দানের পরিবর্তে একটিমাত্র দান করেন তাহলেও পুণ্যপ্রাপ্তি আছে। শ্রীকৃষ্ণ জগন্নাথের মহাবেদিতে গমনকালে যাবতীয় দান মেরুদানের তুল্য বিবেচিত হয়। মহাবেদিতে শ্রীকৃষ্ণ জগন্নাথের অবস্থানকাল দুর্লভ মহাযোগ রূপে খ্যাত। জগন্নাথদেব গুণ্ডিচাবাড়ির মণ্ডপে যে সাত দিন থাকেন, ওই কয়দিন গুণ্ডিচাতীর্থে দান, হোম, জপ করলে সর্বপাপ বিমোচন হয়। যে স্থানে স্বয়ং জগন্নাথদেব আবির্ভূত হয়েছেন, যে স্থানে অবস্থিত রয়েছে নৃপতি ইন্দ্রদ্যুম্ন নির্মিত অশ্বমেধ যজ্ঞের মহাবেদি সেই পবিত্র স্থানই গুণ্ডিচা। গুণ্ডিচাতে ত্রিমূর্তি চলে আসেন রথের দিন। গুণ্ডিচার চেয়ে পবিত্রতম স্থান আর পৃথিবীতে নেই। 
'গুণ্ডিচামণ্ডপং নাম যত্রাহমজনং পুরা। অশ্বমেধসহস্রস্য মহাবেদী তবাভবৎ।।
তস্যাঃ পুণ্যতমং স্থানং পৃথিব্যাং নেহ বিদ্যতে।।'
গুণ্ডিচার কী মাহাত্ম্য! এখানেই রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন আহুতি প্রদান করেছেন। তাই এই স্থান ভগবান জগন্নাথের অত্যন্ত প্রিয়। নীলগিরি, রম্য এই প্রাসাদ অশ্বমেধ যজ্ঞের পূর্ণ মহাবেদি নৃসিংহক্ষেত্র শ্রীজগন্নাথের কাছে খুবই প্রীতিকর। এই দিব্য স্থান শ্রীজগন্নাথের জন্ম-আবাস। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং জানিয়েছেন তাঁর আত্মার স্বরূপ ব্রহ্মা শ্রীজগন্নাথকে এই  প্রাসাদে স্থাপন করেছেন। ব্রহ্মার অনুরোধ ও রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের ভক্তির জোরে শ্রীজগন্নাথ চিরকাল গুণ্ডিচা ভবনে অবস্থান করবেন। গুণ্ডিচামণ্ডপে  শ্রীজগন্নাথ তাঁর দাদা ও বোনকে নিয়ে যে কদিন থাকেন সর্বতীর্থময় নিকটস্থ সরোবরে সেই সাত দিনের মধ্যে মানবের জগন্নাথ দর্শনে বৈকুণ্ঠধামে যাওয়ার ছাড়পত্র পাওয়া যায়। এই ক্ষেত্রে অবস্থান করবেন ইন্দ্রদ্যুম্ন সরোবরে স্নান, জগন্নাথ দর্শন করলে জননীর জঠরে আর আসতে হয় না। নবম দিনে দক্ষিণাভিমুখী শ্রীজগন্নাথ দর্শনের প্রতি পদক্ষেপ  অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল দান করে। আর মৃত্যুর পর শ্রীবিষ্ণুর সাযুজ্যলাভের  মার্গ সুগম হয়।
এই সেই গুণ্ডিচাগৃহ।যেখানে রানি গুণ্ডিচা  প্রচণ্ড আগ্রহে, কৌতূহলে মন্দিরের ভিতর থেকে কোনও শব্দ না পেয়ে নির্ধারিত একুশ দিনের পূর্বে মাত্র পনেরো দিনেই মন্দিরের দরজা উন্মোচন করে দিয়েছিলেন। সম্মুখে প্রকাশিত হলেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা মূর্তি। ভাস্কর অনন্ত মহারানাকে আর দেবতা নির্মাণের ঘরে পাওয়া গেল না।
সমুদ্রে ভেসে আসা 'চতুর্ভুজস্বরূপ চতুঃশাখা সম্পন্ন' বৃক্ষরাজকে দর্শন করে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন  ভাবছেন কিভাবে দেব প্রতিমা নির্মিত হবে তখন আকাশবাণী জানিয়েছিল, সেই অপৌরুষেয়  ভগবান স্বয়ং নিজ মূর্তির বিষয়ে বিবেচনা করে এই আবরণবেষ্টিত গুপ্ত মহাবেদিতে আবির্ভূত হবেন। তোমরা পঞ্চদশ দিবস পর্যন্ত বেদিগৃহকে আচ্ছাদিত করে রাখবে। যে বৃদ্ধ সূত্রধর যন্ত্র সহ উপস্থিত হচ্ছেন তাঁকে বেদিগৃহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে গৃহদ্বার অতি যত্নে বন্ধ করে দাও। কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বেদির চতুর্দিকে বাজনার ধুম লাগিয়ে দাও। যাতে মূর্তি নির্মাণের শব্দ কারও কানে না যায়। কিন্তু রানি গুণ্ডিচা
 তীব্র কৌতুহলে দ্বার উন্মোচন করলেন। প্রকাশ পেলেন ‘পদ অঙ্গুলি নাহি হাত, শ্রীদারুব্রহ্ম।। জগন্নাথ।’ এই গুণ্ডিচা বাড়িতে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভু জগন্নাথের শরীরে লীন হবার কথা লিখেছেন লোচন দাস। ‘গুঞ্জাবাড়ির মধ্যে প্রভুর হৈল অদর্শন। সাক্ষাতে দেখিল গৌর প্রভুর মিলন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ