অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: দুই লবির শিক্ষকদের রেষারেষিতে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে! আটের দশকের গোড়ায় চালু হওয়া ‘অ্যাডাল্ট, কন্টিনিউইং এডুকেশন অ্যান্ড এক্সটেনশন’ বিভাগটি ভেঙে যাচ্ছে। তার বদলে হচ্ছে দু’টি স্কুল। একটি হল ‘স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন’। অন্যটি হল ‘স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কন্টিনিউইং এডুকেশন’। আগামী মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের (ইসি) বৈঠকে এটিই অন্যতম অ্যাজেন্ডা বলে সূত্রের খবর। বিরোধ এড়াতে এর পক্ষে শিক্ষকরাও সায় দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অ্যাডাল্ট, কন্টিনিউইং এডুকেশন অ্যান্ড এক্সটেনশন’ (এসিইই) বিভাগটি চালু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। এদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয় ১৯৭০ সালে। তারই ফলশ্রুতিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগ খোলা শুরু হয়। এখানে মূলত বৃত্তিমূলক এবং পেশামুখী কোর্সগুলিতেই জোর দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকতা কোর্সটিও এর অধীনে চালু হয়। এখন এটি ‘ফ্যাকাল্টি অব ইন্টারজিসিপ্লিনারি স্টাডিজ ল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের’ (আইএসএলএম) অধীনে। এখন পৃথক বিভাগ হিসেবেই গণ্য হয় এসিইই। তবে আইএসএলএম ফ্যাকাল্টির অধীনে প্রায় সমবিষয়ক আরেকটি স্কুল রয়েছে। সেটি হল ‘স্কুল অব মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড কালচার’। সেটি মূলত গবেষণাধর্মী। তাই এটি পৃথকভাবে থেকে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন কোর্স নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। সেখানে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করেই পড়ুয়াদের ইচ্ছেমতো নম্বর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল দুই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। তদন্তে তার প্রমাণও মেলে। তবে, সেই অর্থে কোনও শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি অধ্যাপকদের। এনিয়ে বিভাগের অন্য অধ্যাপকরাও রীতিমতো ক্ষুব্ধ ছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের লাগাতার বিক্ষোভেও তেমন কোনও ফল মেলেনি। শেষ পর্যন্ত বৃত্তিমূলক ও কারিগরি এবং অন্য পেশামুখী কোর্সগুলিকে পৃথক করা হচ্ছে জার্নালিজম অ্যান্ড মাসকমিউনিকেশন থেকে। তবে ছাত্রছাত্রীরা মনে করছেন, এতে অভিযুক্ত অধ্যাপকদের হাতই শক্ত হবে। তাঁদের মধ্যে কেউ এর ডিরেক্টর হয়ে ছড়ি ঘুরিয়ে চলবেন। সেই কারণেই এই ব্যবস্থা। প্রসঙ্গত, এত বিতর্কের জেরে এ বছর জার্নালিজম এবং মাস কমিউনিকেশনের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্সে খুবই কম পড়ুয়া আবেদন করেন। ফলে এবছরের জন্য স্থগিত করে দিতে হয় কোর্সটি। আগামী বছরও পড়ুয়ার সংখ্যা কম থাকলে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে কোর্সটি। তবে এই বিষয়ের এমএ কোর্সটি এখনও চলছে।