Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেড় লক্ষেরও কম, রাজ্যের সর্বনিম্ন ভোটার জোড়াসাঁকোয়

এসআইআর-এর পর রাজ্যের সব বিধানসভা কেন্দ্রেই কমবেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। কোথাও কোথাও নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যা চমকে দেওয়ার মতো।

দেড় লক্ষেরও কম, রাজ্যের সর্বনিম্ন ভোটার জোড়াসাঁকোয়
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এসআইআর-এর পর রাজ্যের সব বিধানসভা কেন্দ্রেই কমবেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। কোথাও কোথাও নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যা চমকে দেওয়ার মতো। এই অবস্থায় জানা যাচ্ছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছেন উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে। কলকাতারই আরেক কেন্দ্র চৌরঙ্গিতেও ভোটার সংখ্যা যথেষ্ট কম। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জোড়াসাঁকো বিধানসভায় ভোটারের চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬৮৬। চৌরঙ্গি কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৩৪৯। এলাকার অভিজ্ঞ ও প্রবীণরা বলছেন, নির্বাচনি ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম কোনো বিধানসভা কেন্দ্রে দেড় লক্ষেরও কম ভোটার ভোট দিতে পারবেন। এসআইআরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার পর এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। যা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির চাপানউতোরও চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এসআইআরে বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ভোটারের নামও বাদ গিয়েছে। আমরা আন্দোলন জারি রেখেছি। বিশেষ করে যেখানে তৃণমূল আগের নির্বাচনগুলিতে ভালো মার্জিনে জয় পেয়েছিল, সেখানে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’ পালটা বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, ‘এবার শুধুমাত্র বৈধ ভোটাররাই ভোট দিতে পারবেন। এতদিন যেসব ভূতুড়ে ভোটার তালিকায় ছিল, তাদের ব্যবহার করে তৃণমূল অনৈতিকভাবে ভোট করাত। এবার আর সেটা করতে পারবে না ওরা। ফলে বিজেপির সুবিধা হবে।’

Advertisement

চৌরঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে কলকাতা পুরসভার ৪৪ থেকে ৫৩ এবং ৬২ নম্বর ওয়ার্ড (সব মিলিয়ে ১১টি ওয়ার্ড)। আর ২২, ২৩, ২৫, ২৭, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২ এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে এই দুই কেন্দ্রেই দু’লক্ষের বেশি ভোটার ছিল। খসড়া তালিকা, চূড়ান্ত তালিকা এবং বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির পর দেখা গিয়েছে, প্রতি ধাপেই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। অনেকে বলছেন, ‘আর যা-ই হোক না কেন, এই দুই কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান খুব সামান্য হবে।’ একেই শহরাঞ্চলে ভোটদানের হার কিছুটা কম হয়। তার উপর যেভাবে এই দুই কেন্দ্রে নাম বাদ গিয়েছে, তাতে এবার কতজন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন, সেটাই দেখার। তবে শুধু এই দু’টি কেন্দ্র নয়, কলকাতার শ্যামপুকুর এবং হাওড়ার বালি কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যাও কমে দেড় লক্ষের নীচে চলে এসেছে। এছাড়াও কলকাতার মধ্যে অনেক কেন্দ্রেই এখন ভোটার সংখ্যা দু’লক্ষের কম। এই তালিকায় রয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রও।

সম্পর্কিত সংবাদ