Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

সরকারের রোষানলে শঙ্কিত জোকার দেশ ছাড়তে চলেছেন

দেশের সফলতম ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হয়েও স্বভূমে ঘোর শঙ্কায় দিন কাটছে নোভাক জকোভিচের। নেপথ্যে সার্বিয়ান সরকারের রক্তচক্ষু।

সরকারের রোষানলে শঙ্কিত জোকার দেশ ছাড়তে চলেছেন
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

বেলগ্রেড: দেশের সফলতম ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হয়েও স্বভূমে ঘোর শঙ্কায় দিন কাটছে নোভাক জকোভিচের। নেপথ্যে সার্বিয়ান সরকারের রক্তচক্ষু। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী টেনিস কিংবদন্তির অপরাধ এই যে, প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুকিচের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আন্দোলনে তিনি ছাত্রদের সমর্থন করেছেন। তাতে বেজায় রুষ্ট রাষ্ট্রনায়ক। ভুকিচের পৃষ্ঠপোষকরা ইতিমধ্যে জকোভিচের গায়ে ‘দেশবিরোধী’ তকমা পর্যন্ত সেঁটে দিয়েছেন। কোমর বেঁধে নেমেছে সরকার ঘনিষ্ঠ সংবাদপত্রগুলিও। ক্রমাগত আক্রমণ শানানো চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রয়োগ হচ্ছে, ‘ভণ্ড’, ‘মেকি দেশপ্রেমী’র মতো উপমা। এই পরিস্থিতিতে পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন জোকার। তাই বাধ্য হয়েই দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন তিনি। গ্রহণ করতে পারেন গ্রিসের নাগরিকত্ব। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিসের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন জকোভিচ।

Advertisement

২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরে একটি রেল স্টেশনের ছাউনি ভেঙে ১৬ জন মারা যান। সেই ঘটনার পর সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করে সার্বিয়ার ছাত্রসমাজ। আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়ান জকোভিচ। গত ডিসেম্বরে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুব সম্প্রদায়ের শক্তিতে আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নকে আমি উৎসাহিত করি। ওদের কণ্ঠস্বর শোনা জরুরি। সার্বিয়ার অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষিত তরুণরাই তাকে বিকশিত করতে পারে। এগিয়ে চলো, সঙ্গে আছি— নোভাক।’ গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তিনি কোয়ার্টার-ফাইনালের জয় উৎসর্গ করেছিলেন আন্দোলনে প্রয়াত এক ছাত্রকে। এর কিছুদিন পর বেলগ্রেড বাস্কেটবল ডার্বি দেখতে জোকার যে পোশাকটি পরে গিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিল, ‘স্টুডেন্টস অ্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স’। সেই থেকে ৩৮ বছরের টেনিস তারকার গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ভুকিচের মদতপুষ্ট সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য, সার্বিয়ার জন্য তাঁর কোনও অবদানই নেই। স্রেফ ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের নাম ব্যবহার করেছেন তিনি।
পরিস্থিতি যে দিকে এগচ্ছে, তাতে নিজের দেশেই আর সুরক্ষিত বোধ করছেন না জকোভিচ। মনে করা হচ্ছে, পরিবার নিয়ে গ্রিসে চলে যেতে পারেন বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড়। নতুন বাসস্থান গড়তে পারেন রাজধানী এথেন্সে। তবে জোকার নিজে এ ব্যাপারে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুধু জানিয়েছেন, ‘এই মুহূর্তে কিছুই চূড়ান্ত নয়। তবে ভবিষ্যতে তেমনটা হতেও পারে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ