Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরনো সংরক্ষণ মেনে জয়েন্টের মেধা তালিকা, ফল প্রকাশে শর্ত হাইকোর্টের

কাঁটা সেই ওবিসি জটিলতা! সেই কারণেই এবার বাতিল হয়ে গেল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের মেধা তালিকা। জয়েন্টের ফল প্রকাশের শর্ত হিসেবে পুরনো সংরক্ষণ মেনে নতুন করে মেধা তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

পুরনো সংরক্ষণ মেনে জয়েন্টের মেধা তালিকা, ফল প্রকাশে শর্ত হাইকোর্টের
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  কাঁটা সেই ওবিসি জটিলতা! সেই কারণেই এবার বাতিল হয়ে গেল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের মেধা তালিকা। জয়েন্টের ফল প্রকাশের শর্ত হিসেবে পুরনো সংরক্ষণ মেনে নতুন করে মেধা তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০১০ সালের আগের ৬৬টি ওবিসি সম্প্রদায়ের তালিকার ভিত্তিতেই নতুন মেধা তালিকা তৈরি করতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। এবং পরবর্তী তিন সপ্তাহের মধ্যে সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার কোনও আধিকারিককে হলফনামা দিতে হবে। এই নির্দেশ সম্পর্কে অবগত করতে হবে মুখ্যসচিবকেও। 

Advertisement

গত ২৭ এপ্রিল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা হয়েছিল। তারপর তিন মাস কেটে গেলেও ফলপ্রকাশ হয়নি। বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছিল, ৭ আগস্ট ফলপ্রকাশ হবে। কিন্তু ওবিসি জটে তা ফের পিছিয়ে গেল। এদিন বিচারপতি চন্দ নির্দেশে জানিয়েছেন, ‘ওবিসি পরীক্ষার্থীদের জন্য আগের মতো ৭ শতাংশ সংরক্ষণই বরাদ্দ থাকবে। রাজ্যের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন ওবিসি তালিকা মেনে মেধা তালিকা প্রকাশ করা যাবে না।’ কিন্তু ওবিসি সংক্রান্ত রাজ্যের নয়া বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাহলে কেন জটিলতা? জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের এই মামলায় গত ২১ মে বিচারপতি চন্দ নির্দেশে জানিয়েছিলেন, ২০১০ সালের আগের ওবিসি তালিকা মেনে ফলপ্রকাশ করতে হবে। কিন্তু তারপরও সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মামলাতেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশের উপর সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দেওয়ার আগেই ২০১০ সালের পূর্ববর্তী ওবিসি তালিকা মেনে জয়েন্টের ফলপ্রকাশ করতে বলা হয়েছিল। তাই এখন সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের বিষয়টি এক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। 
এছাড়াও বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের পর মাত্র কয়েক দিনে কীভাবে সকলকে ওবিসি শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব হল? আবেদন যাচাই থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট দেওয়া, গোটা প্রক্রিয়া কীভাবে এত কম সময়ের মধ্যে সম্ভব? তাই আদালত মনে করছে, সঠিক পদ্ধতি মেনে মেধা তালিকা তৈরি করা হয়নি।  
২০১০ সালে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে ৪২টি এবং ২০১২ সালে তৃণমূল সরকারের আমলে আরও ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি বলে চিহ্নিত করা হয়। এই গোটাটাই বাতিল করে দিয়ে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত যে ৬৬টি জনগোষ্ঠী ওবিসি হিসেবে চিহ্নিত ছিল, তাদের সার্টিফিকেটই চাকরিতে নিয়োগ কিংবা কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে। পুরনো নিয়ম অনুযায়ী জয়েন্টের ক্ষেত্রে ওবিসিদের জন্য ৭ শতাংশ সংরক্ষণ ছিল। এদিন সেই পুরনো নির্দেশ অনুযায়ী নতুন করে মেধা তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি চন্দর বেঞ্চ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ