নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ব্রিকসের লক্ষ্য আমেরিকার একক আগ্রাসন প্রবণতা এবং ডলারের আধিপত্য কমানো। কিন্তু দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চকে মার্কিন বিরোধী একটি গোষ্ঠীর সম্মেলনে পর্যবসিত হতে দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বরং সেই মঞ্চ থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংকেই একের পর এক কড়া কথা শুনিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ডলারের বিরুদ্ধাচারণও করা হয়নি ব্রিকস ঘোষণাপত্রে। অর্থাৎ আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে যে কোনো প্রভাব পড়ছে না, পরোক্ষে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। আবার ব্রিকস সম্মেলনে সমাপ্ত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার ভারতে শুরু হয়ে গেল ভারতীয় ও মার্কিন সেনার যৌথ যুদ্ধ-মহড়া। একেবারে চীন এবং পাকিস্তান উভয় সীমান্তের দোরগোড়ায় এই মহড়া চলছে, যা অভিনব।
উত্তরাখণ্ডের আউলিতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার অদূরে চলছে এই যৌথ মহড়া। একইসঙ্গে রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড রেঞ্জেও তা শুরু হয়েছে। এভাবে চীন এবং পাকিস্তান দুই ফ্রন্টেই ভারত ও মার্কিন যৌথ মহড়া চলা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনা প্রধানরা বিগত বছরগুলিতে বারবার বলেছেন যে, ‘আমাদের দুই ফ্রন্টেই সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ সংঘাতের রূপরেখা বদলে যাচ্ছে নতুন বিশ্বের সামরিক কৌশলে।’ সে কথারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছেন এবার। মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ফার্স্ট ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড কমব্যাট টিম, একাদশ এয়ারবোর্ন ডিভিশন (আর্কটিক অ্যাঞ্জেলস) এবং তৃতীয় মাল্টি ডোমেন টাস্ক ফোর্স যোগ দিয়েছে এই যৌথ মহড়ায়। আমেরিকা মোতায়েন করেছে এয়ারক্র্যাফট ইন্টিগ্রেটেডে ডিফিট সিস্টেম। এছাড়া অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সিরিজ আছে, যা ভারতও আগামী দিনে আরও ক্রয় করবে বলে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ১১ বছর পর আগামী সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্টও যাচ্ছেন আমেরিকায়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সমর বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দুই সুপারপাওয়ারের সাক্ষাতের ভরকেন্দ্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা ও ব্যবহারই হবে প্রধান অ্যাজেন্ডা।