নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের সময়সীমা চূড়ান্ত করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৩১ মে। তার মধ্যেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যোগ্য শিক্ষকদের কাজের মেয়াদও ওই পর্যন্তই। অর্থাৎ, যোগ্য ১৯ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকছে ৩১ মে পর্যন্ত।
নিয়োগ দুর্নীতির দায়ে চাকরিহারা হয়েছিলেন ২৬ হাজার শিক্ষক এবং প্রায় ৮ হাজার শিক্ষাকর্মী। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি হয়েছিল তাঁদের। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, দ্রুত সেই পদে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। যতদিন না সেই প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে, ততদিন যোগ্য বলে চিহ্নিত শিক্ষকরা চাকরি করবেন। তবে অযোগ্য বলে চিহ্নিতদের নিয়োগ তখনই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। নতুন নিয়োগের জন্য সময়ও বেঁধে দিয়েছিল আদালত। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সেই সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয় চলতি বছরের ৩১ আগস্ট। যদিও তার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। সোমবার শীর্ষ আদালতে মামলা উঠলে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন। এদিনও আর একবার নির্ধারিত সময় বাড়ানোর আবেদন করে এসএসসি। সুপ্রিম কোর্ট তা মঞ্জুর করলেও এদিন জানিয়ে দিয়েছে, ‘এটাই শেষবার। আর সময় বাড়ানো হবে না। আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মে’র মধ্যে নবম-দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষকের পাশাপাশি গ্রুপ সি এবং ডি’র নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করতেই হবে। ততদিন পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি বহাল থাকবে। তারা বেতনও পাবেন।’ অর্থাৎ, প্রায় ১৯ হাজার যোগ্য শিক্ষকের চাকরি থাকছে আর ন’মাস। বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের সাফ কথা, ‘শিক্ষক নিয়োগ করতে এত দেরি বা কেন? ন’মাসের মধ্যে যাবতীয় নিয়োগ সম্পূর্ণ করুন।’
কমিশনের পক্ষে আইনজীবী তা মেনে নেন। যদিও শিক্ষকদের পক্ষে ইন্দিরা জয় সিং, পি এস পাটওয়ালির মতো আইনজীবীরা বলেন, ‘ওটা ৩১ জুলাই করে দিন। আর এসএসসিকে কড়াভাবে নির্দেশ দিন, যাতে আর সময় ফেল না করে।’ ৩১ মে’র মধ্যে যদি নিয়োগ সম্পূর্ণ না হয়, তখন কী হবে? কারণ, সুপ্রিম কোর্টে তখন গ্রীষ্মাবকাশ চলবে। এরপরও সময় ফেল করলে আমরা কোথায় গিয়ে আবেদন করব? বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের মন্তব্য, ‘আর নয়। স্পষ্ট করে বলছি, এটাই শেষ সুযোগ।’
আদালতে কমিশন জানিয়েছে, মোট ৩৫ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নবম-দশমের ক্ষেত্রে ২৩ হাজার এবং একাদশ-দ্বাদশের ক্ষেত্রে ১২ হাজার। তাই অতিরিক্ত সময় চাই। সুপ্রিম কোর্টে তা অনুমোদন করেছে। বিচারপতি বিচারপতি সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, ‘এর বাইরে অন্য কোনো ইস্যু উত্থাপন হলে, তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করুন। সুপ্রিম কোর্টে মামলার নিষ্পত্তি হল।’



