Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এনআরসি আন্দোলনের জের, মণিপুরে বন্ধ জনগণনার কাজ, কাংপোকপিতে ফের নিহত ৩

‘নো এনআরসি, নো সেন্সাস’। সাম্প্রতিক সময়ে এমনই দাবিতে উত্তাল হয়েছে মণিপুর। বিশেষ করে ইম্ফল উপত্যকায় ব্যাপক আন্দোলন, রাস্তা অবরোধ ও ৪৮ ঘণ্টার বন্‌ধও ডাকা হয়।

এনআরসি আন্দোলনের জের, মণিপুরে বন্ধ জনগণনার কাজ, কাংপোকপিতে ফের নিহত ৩
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: ‘নো এনআরসি, নো সেন্সাস’। সাম্প্রতিক সময়ে এমনই দাবিতে উত্তাল হয়েছে মণিপুর। বিশেষ করে ইম্ফল উপত্যকায় ব্যাপক আন্দোলন, রাস্তা অবরোধ ও ৪৮ ঘণ্টার বন্‌ধও ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হল কেন্দ্র। অনির্দিষ্টকালের জন্য মণিপুরে বন্ধ হয়ে গেল সেন্সাস। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। তার পর এই সিদ্ধান্ত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মণিপুরের রাজ্যপাল অজয়কুমার ভাল্লা, মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিং, স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন সহ অন্য আধিকারিকরা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, মণিপুরের ১৪টি নাগরিক সংস্থা এবং মেইতেই ও নাগা সম্প্রদায়ের মানুষের দাবি ছিল, আদমশুমারির আগে রাজ্যে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (এনআরসি) করতে হবে। স্থানীয় সংগঠনগুলির অভিযোগ, মায়ানমার থেকে আসা বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রাজ্যে বসতি স্থাপন করেছে। এনআরসি ছাড়া আদমশুমারি হলে তাঁদেরও গণনাভুক্ত করা হতে পারে। তা হলে সঠিক জনসংখ্যা জানা যাবে না। এর পরেই ‘নো এনআরসি, নো সেন্সাস’ স্লোগান তুলে মণিপুরজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন। বন্‌ধও ডাকা হয়। রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বৈঠক ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত রাজ্যবাসীর আবেগ ও দাবিকে সম্মান জানিয়ে আপাতত সেন্সাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
এদিকে, হিংসাদীর্ণ মণিপুরে ফের প্রাণহানির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার সকালে কাংপোকপি জেলার তেইখাং গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন তিনজন। আরও চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল আটটা নাগাদ বেশ কয়েকজন জঙ্গি তেইখাং গ্রামে ঢুকে সাধারণ মানুষদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়।
টুইলাং এলাকার কুকি সিএসও ওয়ার্কিং কমিটির অভিযোগ, হামলাকারীরা এনএসসিএন-আইএম এবং জেডইউএফ-কে এর সদস্য। সংগঠনটির দাবি, পরিকল্পিতভাবে গ্রামের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে এভাবে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।  মহিলাদের প্রতিবাদ। ছবি: পিটিআই

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ