নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা রেখে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন মুর্শিদাবাদের চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আজ সোমবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে সভা করবেন। কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে প্রায় চার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা নিজের নিজের এলাকায় বসে আলোচনা করেছেন। ঠিক হয়, কীভাবে চাকরি ফেরানোর জন্য রাজ্য সরকার রিভিউ পিটিশন বা অন্য কোনও আইনি পদক্ষেপ করবে সে ব্যাপারে জানতে চাইবেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা রেখেই অধিকাংশ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। সকলেই চাইছেন, যেন তেন প্রকারেণ যোগ্যরা চাকরি ফিরে পাক।
‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর সঙ্গে যুক্ত হাবিবুল্লা শেখ বলেন, যোগ্যরা যেভাবে চাকরি হারাল তাতে আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তবে এখন ধৈর্য ধরতে হবে সকলকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে আমরা অংশ নেব। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ওই সভায় অংশ নেব বলে রবিবারই আমরা জেলা ছাড়ছি। আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।
ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অপর এক শিক্ষক সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের ভরসা রাখতেই হবে। এই মুহূর্তে আমরা নিজেরা কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা যোগ্যতার সঙ্গে চাকরি পেয়ে এতদিন চাকরি করেছি। হঠাৎ করে যেভাবে চাকরি চলে গেল, তা সম্মানহানির বিষয়। এখন চাকরি ফিরে পাওয়া ছাড়া সম্মানরক্ষার দ্বিতীয় কোনও উপায় নেই। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা। উনি ডেকেছেন, আমরা নিশ্চয়ই যাব এবং আমাদের মতামত জানাব। উনিও কী বলছেন বা আমাদের নিয়ে সরকারের ভাবনা চিন্তা কী, সেটাও আমাদের জানতে হবে।
শনিবার বিকেলে বহরমপুরের শ্রীগুরু পাঠশালায় একটি সভা হয়। সেখানে বহু চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকা হাজির হয়েছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার দিকে তাকিয়ে। এক শিক্ষক বলেন, আমাদের আইনি লড়াই চলবে। কিন্তু রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান আমাদের নিয়ে কী ভাবছেন সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সভা নিয়ে আমরা আশাবাদী। আমরা সকলেই সেখানে যাব। আগামীতে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য এসএসসি কী পদক্ষেপ করবে, সেটাও স্পষ্ট করা দরকার।
যদিও এদিন নাম না করে কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, এসএসসিকে বলির বকরা বানানোর চেষ্টা করছেন। বাংলায় যা কিছু হয় আপনার নির্দেশে হয়, সেটা কচি খোকাও জানে। গোটা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন আপনি, আপনার পরিবার এবং আপনার পার্টি সকলে। আপনার দলের সেনাপতিও চুপ করে আছে, সেও কোনও কথা বলছে না। যেমন করে আর জি করের ঘটনার পর সেবাশ্রয় খুলে সব ব্যবস্থা করেছেন, তেমনি করে চাকরি দুর্নীতিতে ২৬ হাজার যুবক যুবতীর চাকরি চলে যাওয়ার পর একটা শিক্ষাশ্রয় খুলে তাঁদের বাঁচানোর জন্য এবং মদত করতে এগিয়ে আসুন। বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মনের অবস্থা আমরা বুঝতে পারছি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের এই সমস্যাটি সহানুভূতির সঙ্গে দেখছেন। আশা করছি নেতাজি ইন্ডোরে বৈঠক থেকে চাকরিহারারা একটা দিশা পাবেন।