নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ছিল রুমাল। হয়ে গেল বেড়াল! ঘি ব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগে ধৃত প্রাক্তন ইসকন কর্তা অলোক প্রভুর উত্থানের গল্পটা অনেকটা এরকমই। মাত্র ৬০০ টাকার মাইনেতে চাকরি করতেন প্রভু। তাঁর এখন ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি। নাম ও প্রতিষ্ঠানের প্রভাব খাটিয়ে বৈভবের শিখরে উঠেছিলেন ‘বাংলাদেশি’ প্রভু। অভিযোগ, ইসকনের নিরাপত্তা বিভাগ থেকে জমি বিভাগে বদলি হতেই তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ বাড়তে থাকে। সেই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।
সম্প্রতি অলোক প্রভুকে নিয়ে ইসকনের শীর্ষ মহলের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকেই এই তথ্য উঠে আসে। সেই বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা গিয়েছে, ইসকনের এই প্রাক্তন কর্তার পুরো নাম অলোক গোবিন্দ দাস। সকলে তাঁকে অলোক প্রভু হিসেবেই চেনে। তাঁর জন্ম বাংলাদেশে। পরবর্তীকালে কৃষ্ণনগর-১ ব্লকে ভালুকায় চলে আসেন। ১৯৯৭ সালে মায়াপুর ইসকনের নিরাপত্তা বিভাগে কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেছিলেন। তখন তার মাসিক মাইনে ছিল ৬০০ টাকা। তারপর ২০০৯ সালে তিনি ঢুকে পড়েন ইসকনের জমি বিভাগে। তারপর থেকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত টানা ১২ বছর, জমি বিভাগের দায়িত্ব সামলেছিলেন। এই দায়িত্বে থাকাকালীন পদ ও প্রতিষ্ঠানের প্রভাব খাটিয়ে নিজের সম্পত্তি বাড়াতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ১০০ কোটি টাকায়। যদিও তিনি একা সেই কাজ করেননি। ইসকনের আরও কর্তাদের সঙ্গে মিলিতভাবে তিনি তা করতে থাকেন। পাশাপাশি মায়াপুর ইসকনজুড়ে তাঁর প্রভাব প্রতিপত্তি এতটাই বাড়তে থাকে যে, সকলেই তাঁকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। এমনকী, একটা সময়ে ইসকন কর্তৃপক্ষের সমান্তরাল ‘প্রশাসন’ও চালাতে থাকেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ইসকনের জমি বিভাগের নতুন এক প্রভু দায়িত্ব নেন। তারপর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সেই মাসেই অলোক প্রভুর বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলায় পুলিস লুক আউট নোটিস জারি করা হয়।