অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: আইনি ঝক্কি এড়াতে ভবিষ্যতে সবার জন্যই সকলের ওএমআর শিটের প্রতিলিপি উন্মুক্ত করে দিতে পারে এসএসসি। এমনই আভাস মিলছে শিক্ষাদপ্তর সূত্রে। এবারও পরীক্ষার পরে এক শীর্ষকর্তার তরফে এমনই পরামর্শ গিয়েছিল এসএসসি’র কাছে। তবে, গোপনীয়তা বিধি লঙ্ঘন হতে পারে এই যুক্তিতে সে-পথে হাঁটেনি এসএসসি। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে অবশ্য সব প্রার্থীর ওএমআর শিটই প্রকাশ করতে হচ্ছে এসএসসিকে। তাই ভবিষ্যতে আগেভাগেই সেই পথ খুলে রাখা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এসএসসি’র কাছে পরামর্শ ছিল, কোনও প্রার্থীকে তাঁর নিজের ওএমআরের কপি দ্রুত দেখানোর জন্য তাঁর থেকে একটি ফি নিক তারা। আর কোনও প্রার্থী যদি অন্য প্রার্থীর ওএমআরের প্রতিলিপি দেখতে চান, তার জন্য সেই ফি করা হোক চারগুণ বেশি। শিক্ষাদপ্তরের ওই কর্তার দাবি, ওএমআর শিট জমা পড়ার পর সেটা এসএসসি’র সম্পত্তি। সেটা এসএসসি কাদের দেখাবে, এসএসসি নিজেই তা ঠিক করতে পারে। তবে, একজনের ওএমআর আরেকজনকে দেখাতে এসএসসি বাধ্যও নয়। ফলে, স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দ্রুততা আনার জন্য ভবিষ্যতে এমন কিছু না-হওয়ার কারণ নেই। আদালতের রায়ের পরে এসএসসিও সেটা বুঝেছে।
আদালতের নির্দেশে প্রায় সওয়া পাঁচ লক্ষ ওএমআর শিট আপলোড করতে হবে এসএসসিকে। এর জন্য কোনও তথ্যপ্রযুক্তি এজেন্সিকেই দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। অন্তত একমাস সকলের জন্যই খুলে রেখে তা বন্ধ হতে পারে। তবে, এর সঙ্গে বড়োসড়ো আর্থিক ব্যয়ভারও জড়িয়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে ফি আদায়ের বিনিময়ে এই ব্যবস্থা চালু করা হলে একদিকে যেমন সরকারের আর্থিক চাপ কমবে, তেমনই বজায় থাকবে স্বচ্ছতা। এ নিয়ে অবশ্য এসএসসি’র কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাড়তি ফি দিয়ে আগেভাগে উত্তরপত্র দেখার পদ্ধতি রাজ্যের স্কুলস্তরের পরীক্ষাগুলিতে ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে আরটিআইয়ের ব্যবস্থা। তবে, সেটি সময়সাপেক্ষ। অন্য প্রার্থীর উত্তরপত্র দেখার ব্যবস্থা অবশ্য সেখানে চালু নেই। তবে, নিয়োগের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে এখন সব তালিকাই প্রকাশ করে দেওয়া হয়। প্রত্যেক প্রার্থীই সবার লিখিত পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ে প্রাপ্ত নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য প্রাপ্ত মার্কস—সবই দেখতে পান। এবার ওএমআর শিটও উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে আদালতের নির্দেশে। তাই ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি ফি আদায়ের বিনিময়ে আগাম চালু করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই বলেই মনে করছেন বিকাশভবনের আধিকারিকদের একাংশ।