নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল ডোমজুড়ের এক যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালের কাছে নীল বাতি ও কেন্দ্রীয় অর্থদপ্তরের বোর্ড লাগানো একটি গাড়িসহ সৌভিক পাড়ুই নামে ওই যুবককে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বহু বেকার যুবক-যুবতীকে চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই অভিযুক্ত। শনিবার রাতে ডোমজুড় হাসপাতাল এলাকায় সৌভিককে নীল বাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় কয়েকজন স্থানীয় মানুষের। তাঁরা গাড়িটি আটকান এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে হাজির হন বেশ কয়েকজন প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, কখনও রিজার্ভ ব্যাংক, কখনও আবার স্বাস্থ্যদপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সৌভিক তাঁদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে। এরপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তের গাড়ি ঘিরে ধরে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয়রা। মারধরের চেষ্টাও হয়। খবর পেয়ে ডোমজুড় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সৌভিককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এক প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীর পরিবারের তরফে অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন সৌভিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক ডোমজুড়ের পাড়ুই পাড়ার বাসিন্দা। পাড়ায় একসময় ‘ভালো ছেলে’ হিসেবেই পরিচিত ছিল সৌভিক। নানা পারিবারিক সমস্যার জেরে বাবার সঙ্গে আলাদা হয়ে অন্যত্র চলে যায় সে। এরপর থেকেই সরকারি আধিকারিক সেজে প্রভাবশালী মহলে যাতায়াত শুরু করে। আন্দুলে সে একটি বড় বাড়ি করেছে বলেও দাবি অনেকের।
বেশ কয়েকমাস আগে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে প্রতারিত করে বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই আর এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না তাকে। পুলিশ জানিয়েছে, নিজেকে নানা সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর কিংবা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিত সৌভিক। এডিটিং অ্যাপে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে নিজের ভুয়ো ছবি তৈরি করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াত। সেইসব ছবি দেখিয়েই চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জন করে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করত সে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সৌভিককে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ। এরপরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘গোটা প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু ডোমজুড় এলাকাতেই একাধিক বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে টাকা
হাতিয়েছে সে।’