Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেনারেটর নেই, লোডশেডিং হলে আঁধারে ডুব হাসপাতালের

জেনারেটর নেই, লোডশেডিং হলে আঁধারে ডুব হাসপাতালের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিতে জেনারেটর রয়েছে। অথচ ব্লকের একমাত্র হাসপাতালে নেই কোনও জেনারেটর। তার জেরে লোডশেডিং হলেই অন্ধকারে ডুবে যায় পুরুলিয়ার কাশীপুরের কল্লোলী গ্রামীণ হাসপাতাল। বন্ধ হয়ে যায় মেশিনপত্র। থমকে যায় গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন। হাসপাতালের এই নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে রোগীর পরিজন থেকে শুরু করে চিকিত্সক-সকলেরই। 
Advertisement
পুরুলিয়া জেলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু বর্তমানে কাশীপুর। এখানেই বাড়ি জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়ার। তাঁর বাবা স্বপন বেলথরিয়া কাশীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ছিলেন। তাঁদের হাত ধরে কাশীপুরের প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে, একথা প্রচার করে এলেও হাসপাতালের অবস্থাই বলে দিচ্ছে উন্নয়নের হাল। অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায় হাসপাতাল চত্বর। ইমারজেন্সির সামনেই টিমটিম করে কয়েকটা আলো জ্বললেও তা যথেষ্ট নয়। হাসপাতালের সামনে একটি হাইমাস্ট লাইট থাকলেও সেটি দীর্ঘ বছর ধরে জ্বলে না। মেরামতির উদ্যোগই নেয়নি প্রশাসন। হাসপাতালের নেই কোনও জেনারেটর। লোডশেডিং হলে দুটি ইনভার্টার ব্যাটারিই ভরসা। ফলে লোডশেডিং হলে রোগীদের ওয়ার্ডেই শুধুমাত্র আলো জ্বলে। 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দৈনিক এখানে অনেক প্রসব হয়। নবজাতকদের শরীর গরম রাখার জন্য অনেক সময় ওয়ার্মারে রাখতে হয়। শিশুদের জন্ডিস হলে ফটোথেরাপি মেশিনে রাখতে হয়। কিন্তু লোডশেডিং হলে সেই মেশিনগুলো যে চলবে, সেরকম বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই ঝুঁকি না নিয়ে বাধ্য হয়ে রেফার করে দিতে হচ্ছে পুরুলিয়া মেডিক্যালে। চাপ বাড়ছে সেই হাসপাতালের উপর। শুধু তাই নয়, লোডশেডিং হলে অন্ধকার হয়ে যায় অপারেশন থিয়েটার। যার জেরে ব্যাহত হয় অপারেশন। হাসপাতাল থেকে চিকিত্সক, স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ার্টারে যাওয়ার রাস্তাও কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায়। রয়েছে সাপের উত্পাত। 
ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রিয়দর্শী যশ বলেন, ‘হাসপাতালে একটি জেনারেটরের ব্যবস্থা হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এনিয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গাতেই আবেদন জানিয়েছি। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি।’
সম্পর্কিত সংবাদ