Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জুনিয়র হাইস্কুল পড়ুয়া শূন্য, কাজ নেই শিক্ষকদের

জুনিয়র হাইস্কুল পড়ুয়া শূন্য, কাজ নেই শিক্ষকদের
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: শিক্ষকের অভাবে যখন একাধিক বিদ্যালয় ধুঁকছে, তখন কাশীপুর ব্লকের রামপুর জুনিয়র হাই স্কুলের ছবিটা উল্টো। বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু কোভিডের পর থেকে বিদ্যালয় পড়ুয়াশূন্য। তবে নিয়ম মেনে শিক্ষকরা প্রতিদিনেই বিদ্যালয়ে আসেন। সাধারণ মানুষের সাথে গল্পগুজব করেন। বাড়ি ফিরে যান। শিক্ষকরাও বিদ্যালয়ের অচলবস্থার কথা প্রশাসনকে বারবার জানিয়েছেন। তাঁদের অন্যত্র বদলির সুপারিশও করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মের ঘেরাটোপে শিক্ষকরা বিদ্যালয়েই রয়ে গিয়েছেন। বিদ্যালয়ে যে আর কোনওভাবেই ছাত্রছাত্রী ভর্তি করে চালু করা সম্ভব নয় সেটাও প্রশাসনের আধিকারিকরা জানেন। শাসক, বিরোধী উভয়ের অভিযোগ, অযথা ২ শিক্ষককে বসিয়ে রাখার কোনও মানেই হয় না। যেখানে একাধিক বিদ্যালয় শিক্ষক শূন্য সেখানে ওই দুই শিক্ষককে বদলি করা উচিত। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক বলেন, বিদ্যালয়ের বিষয়ে জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Advertisement
বিদ্যালয়ের টিআইসি উত্তম দাস বলেন, মেদিনীপুর থেকে ২০১১ সালে এসে পুরুলিয়ায় চাকরিতে যোগদান করি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী নেই। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী আনার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সম্ভব হয়নি। ছাত্রছাত্রী না থাকলেও আমাদের নিয়মিত আসতে হয়। অসুবিধার কথা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আমাদের অন্যত্র বদলি করার কথাও জানানো হয়েছে। একই কথা বলেন ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক বাপ্পা দাঁ। তিনি বলেন, বর্ধমানে বাড়ি। বর্তমানে আদ্রাতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছি। আর কয়েকটা বছর চাকরি রয়েছে। তাই চাকরির শেষ সময়ের কয়েকটা বছর যাতে জেলার বা জেলার সামনা সামনি কোনও বিদ্যালয়ে দেওয়া হয় তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। বিজেপি নেতা উমাপদ মাহাত বলেন, বর্তমানে একাধিক বিদ্যালয় শিক্ষকের অভাবে ধুকছে। সেই জায়গায় ওই দুই শিক্ষককে বসিয়ে রাখার কোনও মানেই হয় না। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বর্তমানে কালীদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। দুই শিক্ষককে ওই বিদ্যালয়ে বহাল করলে অসুবিধা দূর হবে। ইন্দ্রবীল চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক তুফান বাগদি বলেন, ওই বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা জেলায় অনেকবার জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে শিক্ষার প্রসারের জন্য কাশীপুর ব্লকের কালীদহ পঞ্চায়েত এলাকার রামপুর গ্রামে জুনিয়র হাই স্কুলটি তৈরি করা হয়। ২০১১ সালে ১০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয়টি চালু হয়। সেই সময় তিনজন শিক্ষক যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে একজন শিক্ষক অন্যত্র চলে যান। বর্তমানে গণিত এবং ইংরেজি দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক রয়েছেন। দোতলা স্কুল বিল্ডিংয়ে চারটি ঘর আছে। মিড ডে মিল রান্নার যাবতীয় ব্যবস্থা আছে। শুরুর পরের বছর থেকেই ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী কমতে থাকে। বর্তমানে তা পড়ুয়া শূন্য হয়ে পড়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ