Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জুনপুটে মৎস্যদপ্তরের জলাশয় ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবি

জুনপুটে মৎস্যদপ্তরের জলাশয় ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবি
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির সমুদ্র উপকূলবর্তী জুনপুট এলাকায় মৎস্যদপ্তরের  বড় জলাশয়কে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা অনেকদিনের। এব্যাপারে একটি প্রকল্প তৈরি করে ২০২২সালে রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছিল। যদিও অনুমোদনের অভাবে সেই পরিকল্পনা আ‌‌জও বাস্তবের মুখ দেখেনি। জুনপুট সহ আশপাশের এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে প্রকল্পটি রূপায়ণে উদ্যোগ নেওয়া দাবি তুলছেন বাসিন্দারা।   
Advertisement
উল্লেখ্য, জুনপুট একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র এবং প্রাচীন মৎস্যক্ষেত্র। ঝাউ সহ নানা গাছগাছালিতে ঘেরা এলাকা। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। অনেকটা অংশে ম্যানগ্রোভ অরণ্যও রয়েছে। জুনপুটে বিরাট এলাকাজুড়ে মৎস্যদপ্তরের অধীনে মিষ্টিজল ও নোনাজল মিলিয়ে ৪৮টি জলাশয় রয়েছে। গাছগাছালিগুলিতে সবসময় পাখির আনাগোনা এবং কলরব লেগেই থাকে। যার টানে বহু মানুষ জুনপুট এলাকায় বেড়াতে আসেন। ওই জলাশয়গুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় জলাশয়টি জুনপুট-দৌলতপুর পাকা রাস্তার ধার বরাবর রয়েছে। ১০০বিঘা আয়তনের এই জলাশয়টিকে ঘিরেই পর্যটনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।যদিও জুনপুটের প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে বছর দশেক আগে ‘বন্যসুন্দরী’ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছিল পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য উন্নয়ন নিগম। সেখানে একাধিক কটেজ সহ অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। কিন্তু রাস্তার সমস্যা সহ নানা কারণে সেই প্রকল্প শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে। আর বাস্তবের মুখ দেখেনি। পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে সেই পরিকাঠামো। তবে জুনপুট এলাকায় বেসরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে একাধিক রিসর্ট ও গেস্টহাউস রয়েছে। পর্যটকরা অনেকেই রিসর্ট ও গেস্টহাউসে গিয়ে থাকেন। দপ্তরের পরিকল্পনা ছিল, জলাশয়ের পাড়ে কয়েকটি ছোট কটেজ গড়ে তোলা হবে। সেখানে পর্যটকরা রাত্রিবাস করতে পারবেন। জলাশয়ের চারদিকে বিভিন্ন গাছগাছালি লাগানো হবে। একটি অংশ নিয়ে পার্ক গড়া হবে। বোটিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পর্যটকরা যাতে মাছ ধরতে বসে ছিপ ফেলতে পারেন, তার জন্য আসন তৈরি করা হবে। সেই মাছ রান্না করে খেতে পারবেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জুনপুটের প্রতি ভ্রমণপিপাসু মানুষ তথা পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে। দপ্তরের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। স্থানীয় বাসিন্দা শুকদেব জানা বলেন, প্রকল্পটি রূপায়ণ হলে খুবই ভালো হবে। জুনপুট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে দারিয়াপুরেই রয়েছে কপালকুণ্ডলা মন্দির, লাইট হাউস, পেটুয়াঘাট মৎস্যবন্দর সহ অন্যান্য স্থান। সব মিলিয়ে বেড়ানোর সুন্দর পরিবেশ পেয়ে যাবেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ তথা পর্যটকরা। জুনপুট ফিশ টেকনোলজিক্যাল স্টেশনের এক আধিকারিক বলেন, পর্যটনের পরিকাঠামোর প্রকল্পটি প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। আমরা এখনও আর্থিক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করে দেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ