Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জয়নগর, ফরাক্কার পর পুলিসের ওপর আস্থা সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের

জয়নগর, ফরাক্কার পর পুলিসের ওপর আস্থা সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অভিষেক পাল, বহরমপুর: আর জি কর কাণ্ডের পর পুলিস ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে কার্যত এককাট্টা হয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ার নেটিজেনরা। পুলিসকে বেনজির আক্রমণ করে সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট করছিলেন শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা। এবার সেই পুলিসের ভূয়সী প্রশংসায় একের পর এক পোস্ট শুরু হয়েছে। জয়নগরের পর ফরাক্কা। ধর্ষণ-খুনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের তদন্তে রাজ্য পুলিসের দক্ষতার প্রমাণ মিলল আরও একবার। গত সপ্তাহে বারুইপুরের বিশেষ পকসো আদালত জয়নগর-কাণ্ডে দোষী সাব্যস্তকে ফাঁসির সাজা দেয়। আর শুক্রবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর আদালত ফরাক্কায় ন’বছরের নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মূল অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা শোনাল। এক্ষেত্রেও অপরাধীদের কঠোরতম সাজা ঘোষণা হল ঘটনার ৬২ দিনের মাথায়। অপর এক দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। জয়নগর ও ফরাক্কার দু’টি ঘটনায় রাজ্য পুলিসের দু’টি পদক্ষেপ রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ধর্ষক ও খুনিদের চরম শাস্তি হওয়ায় প্রতিবাদী নেটিজেনরা বেজায় খুশি। 
Advertisement
হরিহরপাড়ার যুবক শামিম রহমান বলেন, জয়নগর ও ফরাক্কা কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের পুলিসের এই সাফল্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আমাদের কাছে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সঠিক পথে তদন্ত চালিয়ে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কুর্নিশ জানাই সরকার ও পুলিস প্রশাসনকে। অনেকেই কয়েক মাস আগে পুলিসের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছিলেন, আজ তারা পুলিসের প্রশংসা করছে। কয়েকদিন আগেও সামাজিক মাধ্যমে পুলিস বিরোধী মন্তব্য করলে বেশি রিচ হচ্ছিল প্রোফাইলে। তাই অনেকেই সেই পথ অবলম্বন করেছিল। আজ তারা কিছুটা হলেও যেন অনুতপ্ত। 
অপরদিকে, আর জি কর কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের উপর আস্থা রাখতে পারছে না অনেকেই। শুক্রবারই চার্জশিট জমা দিতে না পারায় এদিনই একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ এবং প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। স্বভাবতই সিবিআইয়ের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। একই দিনে রাজ্য পুলিসের এহেন ‘সাফল্য’ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদিচ্ছা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো পোস্ট হতে শুরু হয়েছে।  
সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা মহম্মদ সোহেল আহমেদ বলেন, এটা ভাবতে অবাক লাগে যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পুরোপুরি ব্যর্থ। আজ রাজ্য পুলিস পরপর দু’টি ঘটনায় নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অথচ আমরাই তাদেরকে নানাভাবে দাগিয়ে দিচ্ছিলাম। পুলিসে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে কয়েক মাস যেতে না যেতেই নিজেদের কাজ করে পুলিস দেখিয়ে দিয়েছে যে, ধর্ষণ ও খুনের মত জঘন্য অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব। দ্রুত তদন্ত করে চার্জশিট জমা দিয়ে প্রতিটি মামলায় দক্ষতার সঙ্গে তারা সেটা করেছে। 
এবছর দুর্গাপুজোর বিজয়া দশমীর দিন ফরাক্কার নয় বছরের নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করে দুই যুবক। ঘটনার দিনই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। কয়েকদিনের মধ্যেই আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ২১ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দেয় পুলিস। দুই অভিযুক্তের সর্বোচ্চ সাজা করানোর জন্য পুলিস উঠে পড়ে নামে। অবশেষে এদিন মিলল স্বস্তি। 
সম্পর্কিত সংবাদ