Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গিযোগে গ্রামের নাম জড়ানোয় হতবাক আরামবাগের শুসনিপাড়া

জঙ্গিযোগে গ্রামের নাম জড়ানোয় হতবাক আরামবাগের শুসনিপাড়া
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: জঙ্গিযোগে নাম জড়িয়েছে গ্রামের ছেলের। ধরা না পড়লেও তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে এনআইএ। তবে ওই যুবকের সঙ্গে জয়েশ ই মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে, তা মানতে পারছেন না পরিবারের সদস্য থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় হতবাক আরামবাগের মায়াপুর-১ পঞ্চায়েতের শুসনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। এনআইএ-র অভিযানের মুখে পড়ে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরাও। শুক্রবার গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, পরিবারের সদস্যরা কার্যত ভেঙে পড়েছেন। অভিযানের খবর পেয়ে আত্মীয়রাও অনেকে এসেছেন। তবে সন্দেহভাজন যুবক ও তার বাবাকে এদিন বাড়িতে পাওয়া যায়নি। যুবকের মা বলেন, এনআইএ একটি নোটিস দিয়ে গিয়েছে। সেইজন্য ওরা কলকাতায় গিয়েছে। 
Advertisement
উল্লেখ্য,গত বৃহস্পতিবার ভোরে ওই গ্রামে অভিযান চালায় এনআইএ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে একঝাঁক অফিসার ওই দিন ভোরে আসেন। তাঁরা এক যুবকের খোঁজে সেখানে অভিযান চালান। যদিও সন্দেহভাজন বাড়িতে ছিল না। পরিবারের সদস্যরা এদিন বলেন, ভোরে বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ান তদন্তকারীরা। তারপর দু’টি ঘরে তাঁরা পৃথকভাবে তল্লাশি চালান। বিভিন্ন নথিপত্র দেখতে চান। সেইসবের ছবিও তোলেন। সকালে অভিযান শেষে তাঁরা বেরিয়ে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবকের পরিবারে বাবা, মা, এক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন দাদা ও ঠাকুমা রয়েছেন। বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। যুবকের বাবা মাঝে বেকারির কাজ করতেন। বর্তমানে ধান ঝাড়ার শ্রমিকের কাজেও যাচ্ছেন। টিন, অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া মাটির ঘরে তাঁদের বসবাস। যুবকের মা বলেন, ছেলে স্থানীয় দু’টি মাদ্রাসায় পড়েছে। তারপর কলকাতায় এমএ পড়েছে। মাঝে কলকাতায় একটি অ্যালুমিনিয়াম ফার্নিচারের দোকানে কাজ করছিল। তবে মাস দুয়েক ধরে বাড়িতেই বসে ছিল। স্মার্টফোন রয়েছে। তবে তা নিয়ে এমন কাজকর্ম করত বলে মনে হয় না। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার ছেলে এরকম কোনও কাজে যুক্ত থাকতেই পারে না। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার আমাদের। অফিসারদের দেওয়া নোটিস অনুযায়ী এদিন স্বামী কলকাতা গিয়েছে। সেখানে ছেলেও গিয়েছে। ওই যুবকের পিসি বলেন, ছোট থেকে কোলে পিঠে ভাইপোকে বড় করেছি। ওর মতো ছেলে এলাকায় নেই। স্থানীয় এক বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ওই যুবকের সঙ্গে জঙ্গিযোগ বিশ্বাসই হচ্ছে না। কারও সঙ্গে চোখে চোখ তুলে কোনওদিন কথা বলে না। কোনওদিন আমরা সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করিনি। ওইদিন একসঙ্গে অনেক পুলিস এসেছিল। আমাদের মনে হয় ওকে ফাঁসানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্যান্য বাসিন্দারাও কার্যত একই সুরে বলেন, আমরা কিছু বুঝতেই পারছি না আচমকা বাইরে থেকে এত পুলিস এসে কেন ওর বাড়িতে গেল। ছেলেটি শিক্ষিত। পাড়ায় ভালোভাবেই মেলামেশা করত। তবে এমন ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়াও প্রয়োজন। 
ওই যুবকের এক বন্ধু বলেন, সন্ধ্যায় বেরিয়ে একসঙ্গে আড্ডা দিতাম। লুডোও খেলেছি। কিছুক্ষণ থেকে আবার বাড়ি ফিরে যেত। ওর সম্পর্কে এমন কথা মানা যাচ্ছে না।
 
সম্পর্কিত সংবাদ