Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গিপুর পুলিস লাইনে হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ, জখম দুই

জঙ্গিপুর পুলিস লাইনে হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ, জখম দুই
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ট্রেনিং চলাকালীন হ্যান্ড স্মোক গ্রেনেড বিস্ফোরণে জখম হলেন দুই পুলিস কর্মী। বৃহস্পতিবার সকালে জঙ্গিপুরের পুলিস প্যারেড গ্রাউন্ডে ট্রেনিং চলাকালীনই এই বিপত্তি ঘটে। পুলিস সুপারের উপস্থিতিতে ওই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক পুলিসকর্তার ‘মাতব্বরি’র ফলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ নিচুতলার পুলিস কর্মীদের। কীভাবে জমায়েত সরানোর জন্য এই গ্রেনেড ব্যবহার করা হবে, সেই ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় ওই পুলিস কর্তা একটি গ্রেনেড কয়েকজন অফিসারের পায়ের দিকে ছুড়ে দিয়ে বলেন, দেখ এতে কারও কিছুই হবে না। এদিকে গ্রেনেডটি মাটিতে আছাড় খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আওয়াজে কেঁপে ওঠে। স্প্লিন্টার ছিটকে দুই পুলিস কর্মী জখম হন। দু’জনকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক এএসআইয়ের পায়ের নীচের দিকের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে দুর্গাপুরে পাঠানো হয়। 
Advertisement
জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায় বলেন, এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা। ট্রেনিংয়ের সময় স্মোক গ্রেনেডের স্প্রিন্টার ছিটকে এসে এক অফিসারের পায়ের পিছনের দিকে আঘাত লেগেছে। ওখানে আমিও ছিলাম। ট্রেনিংয়ের জন্য ১৫০জন অফিসারও উপস্থিত ছিলেন। আমরা সকলেই ট্রেনিং করেছি। এমন ধরনের ঘটনা ঘটবে কেউ বুঝতে পারিনি। জখম অফিসার যাতে ভালোভাবে চিকিৎসা পান, সেই জন্য আমরা দুর্গাপুরে পাঠিয়েছি। 
এদিনের ঘটনায় এএসআই ছাড়াও একজন কনস্টেবল জখম হয়েছেন। তাঁকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিস আধিকারিকরা। ট্রেনিং চলাকালীন এভাবে গ্রেনেড বিস্ফোরণ হয়ে পুলিস কর্মীরা রক্তাক্ত হওয়ায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমন গ্রেনেড যে প্রাণঘাতী হতে পারে, ধারণাই ছিল না পুলিস কর্তাদের। এদিকে এই গ্রেনেড মিটিং মিছিলের ভিড় সরানোর জন্য অহরহ ব্যবহার করে পুলিস। যেকোনও সময় এভাবে বিস্ফোরণ হয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
জেলার এক শীর্ষ পুলিস কর্তা বলেন, এই ধরনের গ্রেনেড যে এভাবে আঘাত আনতে পারে, সেটা আমরা কেউ জানতাম না। আমারও পায়ের সামনে এই ধরনের গ্রেনেড ফেটেছে। সাধারণত জমায়েত সরানোর জন্য এগুলি আকছার ব্যবহার করা হয়। চাকরির এত বছর পরে এই ধরনের ঘটনা প্রথম দেখলাম। স্মোক গ্রেনেড থেকে কারও আঘাত লাগতে পারে এমন কোনও ধারণাই  আমাদের ছিল না। 
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, না জেনে কেন এই ধরনের প্রশিক্ষণ? ওই পুলিসকর্তা কেনই বা এক অফিসার ও কনস্টেবেলের পায়ের দিকে এই গ্রেনেড ছুড়লেন? নিচুতলার পুলিস কর্মীদের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এমনকী, এই ঘটনা সামনে আসতেই সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত। কেউ কেউ বলেন, মিটিং, মিছিলে জমায়েত হটানোর জন্য যদি এই ধরনের গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়, তা ফেটে তো সাধারণ মানুষেরও আঘাত লাগবে। পুলিস কেন এই ধরনের প্রাণঘাতি স্মোক গ্রেনেড ব্যবহার করছে? এদিনের ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে। - প্রতীকী ছবি
সম্পর্কিত সংবাদ