Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গলমহলে গার্হস্থ্য হিংসা বাড়ছে, মোকাবিলায় হিমশিম সমাজকল্যাণ দপ্তর 

জঙ্গলমহলে গার্হস্থ্য হিংসা বাড়ছে, মোকাবিলায় হিমশিম সমাজকল্যাণ দপ্তর 
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্ৰাম জেলায় গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। অভিযোগের পর অভিযোগ আসছে জেলার সমাজকল্যাণ দপ্তরে। স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন প্রশাসনিক কর্তারা। সমস্যা মোকাবিলায় পথ খুঁজতে শুক্রবার রাজ্য মহিলা কমিশন বৈঠকে বসবে। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলায়  ২০২৩-২০২৪ সালে মোট ৩৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে সমাজ কল্যাণ দপ্তরে। এই পরিসংখ্যান ২০২২-২০২৩ সালের তুলনায় অনেকটাই বেশি।  
Advertisement
গার্হস্থ্য হিংসার ক্ষেত্রে বিবাহিত মহিলারা এতদিন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ (এ ) ধারায় অভিযোগ দায়ের করতেন। এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যেত। ২০২৩ সালে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ চালু হওয়ার পর গার্হস্থ্য হিংসার বিষয়টি দেখার জন্য দায়িত্ব বেড়েছে সমাজ কল্যাণ দপ্তরের। সেই কারণে নির্যাতিতারা এখন সংসার বাঁচিয়ে গার্হস্থ্য হিংসার মোকাবিলা করতে দপ্তরের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অভিযোগ এলেই পরিবারের সদস্যদের ডেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছ‌। নির্যাতিতা মহিলাদের প্রথমেই আর পুলিস ও আইনজীবীদের কাছে যেতে হচ্ছে না। আলোচনার মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। শারীরিক নিগ্ৰহ বা ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলে পুলিস ও আইনজীবীদের সহযোগিতা দেওয়ার ব্যাবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। জেলার সমাজ কল্যাণ দপ্তরের সুরক্ষা আধিকারিক অভিজিৎ নামাতা বলেন, ‘গার্হস্থ্য হিংসার শিকার মহিলারা সমস্যা সমাধানের জন্য এতদিন কোথায় যাবেন জানতেন না। মুখ বুজে তাঁরা অন্যায় সহ্য করতেন। বেশিরভাগ বিবাহিত মহিলাই চান না সম্পর্ক ভেঙে যাক। থানায় অভিযোগ হলে দাম্পত্য সম্পর্ক বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভেঙে যায়। আমরা সেখানে বিবাহিত মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন,  গার্হস্থ্য হিংসা বাড়ার কারণও খতিয়ে দেখা হবে। আগামী শুক্রবার এই জেলায় রাজ্য মহিলা কমিশনের সদস্যরা আসবেন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক হবে। আমাদের দপ্তরের আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকবেন। তবে ঘটনা হল,  নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সমাজ কল্যাণ দপ্তরের ভূমিকা সম্পর্কে এখনও জেলার অধিকাংশ মহিলাই অজ্ঞাত। দপ্তরের কাজকর্ম নিয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। সেক্ষেত্রে ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন।  ঝাড়গ্ৰাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান স্টেপ’ সেন্টারের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ঝুলন কুন্ডু বলেন, ‘সমাজ কল্যাণ দপ্তর থেকে মহিলাদের অনেক সময় এখানে পাঠানো হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের আশ্রয় দেওয়া হয়। থানা ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়।’ 
কিন্তু প্রশ্ন হল, গার্হস্থ্য হিংসা কেন এত উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে? ঝুলনদেবীর পর্যবেক্ষণ, ‘আগে পরিবার বড় ছিল সেখানে পরিবারের বড়রাই অনেক সমস্যার সমাধান করে দিতেন। পরিবার ছোট হয়ে যাওয়ার কারণে দাম্পত্য সমস্যা বড় আকার নিচ্ছে। তা ছাড়া বর্তমান প্রজন্মের মেয়েরা শিক্ষা ও আর্থিক দিক থেকে আগের থেকে স্বাবলম্বী। তাঁরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন। আবার সংসার ভেঙে যাক, সেটাও তাঁর চাইছেন না। সেক্ষেত্রে সমাজ কল্যাণ দপ্তর তাঁদের বড় আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।’
সম্পর্কিত সংবাদ