Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জনবহুল এলাকায় এটিএম ভেঙে টাকা লুটের চেষ্টা, দু’ঘণ্টার মধ্যে পলাতক দুষ্কৃতীকে ধরল পুলিস

জনবহুল এলাকায় এটিএম ভেঙে টাকা লুটের চেষ্টা, দু’ঘণ্টার মধ্যে পলাতক দুষ্কৃতীকে ধরল পুলিস
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ঘড়ি ধরে দু’ঘণ্টা। এটুকু সময়ের মধ্যেই এটিএম লুটের কিনারা করে দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলল শান্তিপুর থানার পুলিস। তার কাছ থেকে এটিএম ভাঙায় ব্যবহার করা নানা সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। ধৃতকে রবিবার রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিসের এই ভূমিকায় খুশি শান্তিপুরবাসী। তবে সেইসঙ্গে শহরের বিভিন্ন অরক্ষিত এটিএমে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের দাবি উঠেছে।
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম সুধন্য সূত্রধর। সে রানাঘাট থানা এলাকার পায়রাডাঙার বাসিন্দা। এর আগে একাধিক চুরি, ডাকাতির চেষ্টা সহ বিভিন্ন অপরাধে সে হাত পাকিয়েছে। শনিবার সকালে শান্তিপুরের অন্যতম জনবহুল এলাকা ডাকঘর মোড়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমের নীচের অংশটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান আশপাশের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বুঝতে পারেন, কেউ বা কারা ওই এটিএমের টাকা লুট করেছে অথবা করার চেষ্টা করেছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা শান্তিপুর থানার পুলিসকে খবর দেন। পুলিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে এটিএমের ভিতরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। তারপর ডাকঘর মোড় এলাকার একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সমস্ত ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর দুষ্কৃতীর গতিবিধি বুঝে যান তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপর তাঁরা সোজা শান্তিপুরের গঙ্গা লাগোয়া একটি ঘাটে পৌঁছে যান। সম্ভবত সেখান থেকেই নদী পেরিয়ে হুগলি অথবা বর্ধমানে চম্পট দেওয়ার ছক কষেছিল সুধন্য। কিন্তু তার আগেই পুলিস তাকে জালে তুলে ফেলে। তদন্ত শুরুর মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যেই দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার হয়।
পুলিস জানিয়েছে, ওই দুষ্কৃতী এটিএম ভাঙলেও তার ভিতর থেকে টাকা বের করতে পারেনি। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। সুধন্য শান্তিপুর সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চুরি, ডাকাতির চেষ্টা সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পুলিসের খাতায় বেশ ‘দাগী’ দুষ্কৃতী সে। আর কোথায় কোথায় সে এটিএম ভাঙার চেষ্টা করেছে, তার অন্য কোনও অপরাধমূলক পরিকল্পনা ছিল কিনা-তা জানতে শান্তিপুর থানার পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।
ধৃত ব্যক্তিকে রবিবার রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল। সেখানে বিচারক তার তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। শান্তিপুরের ডাকঘর মোড়ের মতো জনবহুল এলাকায় এটিএম ভাঙার চেষ্টায় আতঙ্কিত শহরবাসী। তাঁদের দাবি, শান্তিপুর শহরে পুলিসি নজরদারি বাড়ানো হোক। এর পাশাপাশি এটিএমের নিরাপত্তা বাড়াতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হোক-এমন দাবিও উঠেছে। কারণ শান্তিপুরের উত্তর হোক বা দক্ষিণ, বেশিরভাগ জায়গায় এটিএমে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়ন থাকে না। ফলে এটিএমে টাকা তুলতে আসা মানুষ নিরাপত্তার অভাবে ভোগেন। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ