সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: একদিকে যখন খাসজমির অভাবে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ থমকে গিয়েছে খড়্গপুর শহরে, তখনই শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি জমি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, জমি দিতে না পারায় খড়্গপুর শহরে অনুমোদন হয়েও একাধিক সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা যাবে না। ফলে বরাদ্দ কয়েক কোটি টাকা ফিরে যাবে। ওই সূত্র জানাচ্ছে, সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি জেলাশাসক, সিএমওএইচ, খড়্গপুগরের এসডিও, পুরসভার চেয়ারপার্সন ও এগজিকিউটিভ অফিসারের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করেন। সেখানে পুরসভাকে জমির সংস্থান করতে বলা হয়েছে। শহরের একটা বড় অংশে রেলের জমি আছে। প্রয়োজনে রেলের সঙ্গেও কথা বলতে বলা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে এইসব সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, কর্মী ও স্বাস্থ্যবন্ধু থাকবেন। এখান থেকে মা ও শিশু ছাড়াও সাধারণ বাসিন্দারাও প্রাথমিক চিকিৎসা পাবেন।
Advertisement
সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর সড়ঙ্গি বলেন, জেলার সমস্ত পুরসভায় সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। প্রতিটি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। শহরাঞ্চলে মোট ৫০টি কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। ২১টির ক্ষেত্রে জমি পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, খড়্গপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। কিন্তু ওই দিনের মিটিংয়ে জানা যায়, পুরসভা মাত্র দু’টির জন্য জমির সংস্থান করতে পেরেছে। বাকিগুলির জন্য জমি পাওয়া যায়নি। পুরসভাকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমির সংস্থান করতে বলা হয়েছে। নয় তো টাকা ফেরত চলে যাবে। তিনি বলেন, জেলাশাসক জমি সংস্থানের ব্যাপারে এসডিওকে প্রয়োজনে রেলের সঙ্গেও কথা বলতে বলেছেন। পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বলেন, ওই মিটিংয়ের পর আমরা আরও তিনটি জমি সংস্থান করতে পেরেছি। এরফলে পাঁচটি জমির সংস্থান হয়েছে। বাকি জমির খোঁজ চলছে। তিনি বলেন, আমরা জমি পাব কোথায়? পুরসভার হাতে অত খাসজমি নেই। রেলের জমিতে ওরা নির্মাণ করতে দেবে না। ফলে রেল এলাকায় সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র করা যাচ্ছে না। জেলাশাসক তো এসডিওকে রেলের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন। দেখা যাক কী হয়। এদিকে জমির অভাবে যখন সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র করা যাচ্ছে না। তখন শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি খাসজমি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার কাউন্সিলার তপন প্রধান বলেন, এই ওয়ার্ডে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করার জন্য জমি দেখা হয়েছিল। তা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর দেখেও গিয়েছে। কিন্তু একটা চক্র সেই জমি বিক্রি করে দিচ্ছে। বিষয়টি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, জমি চিহ্নিত করে সেখানে সরকারি বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হোক।



