Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমির হদিশ পেতে ভূমিদপ্তরে আবেদন করল ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ

জমির হদিশ পেতে ভূমিদপ্তরে আবেদন করল ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের প্রায় তিনশো একরের বেশি জমি ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে, তা জানার জন্য জেলার ভূমিদপ্তরকে আবেদন জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ‘ন্যাক’-এর প্রতিনিধি দল কলেজ পরিদর্শন করে যায়। ফের একটি পরিদর্শক দল আসবে আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর। কলেজের পরিকাঠামো, পঠনপাঠন, রেজাল্ট ইত্যাদির ভিত্তিতে তারা কলেজের গ্রেডেশন দেবে। প্রয়োজনে উন্নয়নের নানা পরামর্শও দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নে জমির প্রয়োজন হবে। তাই তাদের বাকি সম্পত্তির হদিশ পেতে উদগ্রীব কলেজ কর্তৃপক্ষ। 
Advertisement
কলেজের অফিসের হিসেব মতো, সরকারি ৩২৮.৯৪ একর জায়গা তাদের রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩.৫৩ একর জায়গা উপর আপাতত সরকারি এই কলেজের ক্যাম্পাস রয়েছে। বাকি জমি কারা দখলে করে রেখেছে তা নিয়েই প্রশ্ন। ইতিমধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সমস্ত জায়গা চিহ্নিত করার জন্য জেলা ভূমিদপ্তরের কাছে আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ দেবনারায়ণ রায়। 
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, রেকর্ড অনুযায়ী এই কলেজের, ঝাড়গ্রাম শহরের জারালাটা মৌজায় (জেএন নম্বর-৩৫৫, খতিয়ান নম্বর-৯৪) ১২০.১০, সত্যাডিহি মৌজায় (জেএন নম্বর-৩৫৪, খতিয়ান নম্বর-৫১) ৬.১১, জঙ্গলখাস মৌজায় (জেএন নম্বর-৩৯৫, খতিয়ান নম্বর-২৩৭৩) ৯৮.২৩ ও জঙ্গলখাস মৌজায় (জেএল নম্বর-৭৩১, খতিয়ান নম্বর ২১৩) রয়েছে ১০৪.৫০ একর জায়গা। অর্থাৎ মোট ৩২৮.৯৪ একক জায়গা থাকার কথা। এখন মাত্র ৩.৫৩ একর জায়গার উপর কলেজটি রয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, ঝাড়গ্রাম শহরে সরকারি জায়গা প্রশাসন উদ্ধার করতে না পারলে উন্নয়নমুখী কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশাসনের উচিত কড়া পদক্ষেপ করে ঝাড়গ্রাম শহরের সমস্ত সরকারি জায়গা পুনরুদ্ধার করা। আগামী দিনে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে। জায়গা না পেলে উন্নয়ন হবে কী করে। কলেজের অধ্যক্ষ দেবনারায়ণ রায় বলেন, আমাদের কলেজের সমস্ত জায়গা ডিমার্কেশনের জন্য অতিরিক্ত জেলাশাসককে (ভূমি) চিঠি দিয়েছি।  জেলা প্রশাসন এই নিয়ে কতখানি সাড়া দেয় তার উপর সবকিছু নির্ভর করছে। সব জায়গা রাজ কলেজে নামে রেকর্ড করা নেই। কিছু জায়গা বেদখল হয়ে থাকলেও থাকতে পারে। জেলা প্রশাসন আমাদের জায়গা ডিমার্কেশন করে দিলে আমরা সে জায়গা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে সুরক্ষিত করতে পারি। এরপরে পুরো বিষয়টি আমরা উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে জানাব। 
১৭ বছর বাদে পুনরায় ন্যাকের প্রতিনিধি দল কলেজে পরিদর্শনে এসেছিল। ১৯ ও ২০ নভেম্বর তাদের প্রতিনিধিরা ফের আসবেন। আমাদের কাছে বিষয়টি খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা  আমাদের সমস্ত কিছু উপস্থাপন করব, সেই হিসেবে তারা গ্রেডেশন করবেন। নতুন কিছু সাজেশনও তাঁরা দিতে পারেন। এই নিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) শাইখ আনসার আহমদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সম্পর্কিত সংবাদ