Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমিজটে আটকে ঝাড়গ্রামে জুলির বাঁধে মৎস্য প্রকল্প

জমিজটে আটকে ঝাড়গ্রামে জুলির বাঁধে মৎস্য প্রকল্প
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: জমিজটে আটকে জুলির বাঁধে মৎস্য প্রকল্পের কাজ। ঝাড়গ্রাম ব্লকের সরডিহা এলাকায় ৬০ বিঘা জায়গাজুড়ে জলাশয়টি আছে। জুলির বাঁধকে মৎস্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলেছেন। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলেন। তারপরেও কোনও কাজ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে।
Advertisement
ঝাড়গ্রাম জেলা হওয়ার পরেই জুলির বাঁধ প্রকল্প নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের অধীনে জুলির বাঁধ প্রকল্পটি প্রথমে ছিল। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের অধীনের রয়েছে। জুলির বাঁধকে মৎস্য প্রকল্প চালু ও পর্যটন কেন্দ্রে হিসেবে গড়ে তোলার দাবি বাড়ছে। গণস্বাক্ষর করে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সেই দাবির সনদ ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌছায়। ঝাড়গ্রাম জেলা হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী তৎকালীন পর্যটন সচিবকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা  বলেন। জেলা প্রশাসনের তরফে এরপরেই কার্যকলাপের তৎপরতা বাড়ে। পরবর্তীতে যদিও সেই কাজের কোনও অগ্ৰগতি হয়নি। আশির দশকে মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে  ইকো হ্যাচারি গড়ে উঠেছিল। আধুনিক প্রক্রিয়ায় ডিমপোনা, চারাপোনা তৈরি হতো। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। প্রকল্পটি আইনি ও জমি জটে বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পটি চালু করার সঙ্গে জুলির বাঁধ ঘিরে মৎস্য পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লাগাতার দাবি উঠতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক গৌতমকুমার ভকতের নেতৃত্বে মৎস্যজীবী ও এলাকার বাসিন্দারা দাবি দাওয়া নিয়ে প্রশাসনের কাছে দরবার শুরু করেন। গৌতমবাবু এদিন বলেন, জেলায় এমন একটি প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসনের সর্বোচ্চস্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেন। তারপরেও কাজের অগ্ৰগতি হয়নি। তৃণমূল নেতা মহাশীষ মাহাত বলেন, প্রকল্পটি চালু হওয়া জরুরি। এলাকার মৎস্যজীবীরা এতে উপকৃত হবেন। দর্শনীয় স্থান হিসেবে এখানে ইংরেজ আমলের নীলকুঠি, ঘোড়াশালা,  প্রাচীন শিবমন্দির আছে। পর্যটনস্থল হিসেবে জায়গাটি গড়ে উঠলে এলাকার আর্থিক অবস্থা বদলে যাবে। স্থানীয় মৎস্যজীবী হরিপদ মাহাত বলেন, জুলির বাঁধে মৎস্য প্রকল্প চালু করা নিয়ে আমরা লাগাতার আন্দোলন করছি। প্রকল্পটি চালু হলে বহু মৎস্যজীবী উপকৃত হবেন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডি বলেন, জমিজট ও আইনি জটিলতার কারণে প্রকল্পটি  বন্ধ হয়ে পড়ে আছে । জট কাটিয়ে দ্রুত যাতে চালু করা যায় তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ