নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জেএমবি’ নয়া সংগঠন আইএমকের (ইমাম মাহমুদের কাফিলা) শাখা ছড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। জেলায় জেলায় তৈরি করেছে স্লিপার সেল। অসম এসটিএফের হাতে ধৃত এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান ও দক্ষিণ দিনাজপুরে একযোগে তল্লাশি চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এরসঙ্গেই অসম ও কেরলেও এদিন তল্লাশি চলেছে। সবমিলিয়ে দেশের তিন রাজ্যের ১৬টি জায়গায় এনআইএ’র অভিযানে পাকড়াও করা হয়েছে আইএমকে’র মোট ১৩ ক্যাডারকে। এরমধ্যে বাংলা থেকে ধৃতের সংখ্যা চার। আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় নয় বাংলাদেশি সহ ১০ জন এখনও পলাতক। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মোবাইল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, জঙ্গি ভাবধারা প্রচারের জন্য বিভিন্ন নথি।
চলতি বছরের শুরুতে অসম পুলিশের এসটিএফের হাতে আইএমকে মডিউলের পর্দা ফাঁস করে। গ্রেপ্তার করা হয় ১১ জনকে।জানা যায়, সিনিয়র জেএমবি নেতা ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লার তৈরি করা এই সংগঠন অসম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরলে শাখা বিস্তার করেছে। টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘পূবের আকাশ ’ নামে এক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংগঠনের ভাবধারা প্রচার, মগজ ধোলাই চালাচ্ছে। পরে এর তদন্তভার নেয় এনআইএ। চলতি বছরের জুন মাসে এই মামলার চার্জশিট অসমের আদালতে জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তাদের তদন্তে উঠে আসে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, দক্ষিণ দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলায় আইএমকে স্লিপার সেল তৈরি করেছে। তাদের হয়ে কাজ করছে একাধিক তরুণ। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি চালিয়ে বেশ কয়েকজন তরুণকে চিহ্নিত করেন এনআইএর আধিকারিকরা। সমস্ত কিছু নিশ্চিন্ত হওয়ার পরই মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, হাওড়া ও পূর্ব বর্ধমানে তল্লাশি চালান। বজবজ থেকে শেখ জুম্মান, ডায়মন্ডহারবার থেকে সাহারুল হক পুরকায়েত, নরেন্দ্রপুর থেকে আবদুর রফিক এবং মঙ্গলকোট থেকে পিয়ার মহম্মদ নামে এক ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা আবদুস কাশেমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অন্য একটি টিম হাওড়া থেকে আরও এক জঙ্গিকে আটক করেছেবলে খবর। চারজনকেই ট্রানজিট রিমান্ডে অসম নিয়ে যাচ্ছে এনআইএ।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মগজ ধোলাইয়ের পাশাপাশি সংগঠন ছড়ানো ও নতুন নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গে। সেইমতো তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে নতুন অল্পবয়সীদের ছেলে নিয়োগ করছিল। ধৃতরা সংগঠনের জন্য তহবিল জোগাড় করছিল জেলায় জেলায় ঘুরে। তদন্তকারীরা জেনেছেন হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা. বর্ধমান, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার সহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক স্লিপার সেল তৈরি করেছে আইএমকে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তারা গোপন মিটিং করছে। সেখানে বাংলাদেশের মাথারা উপস্থিত থাকছে। সীমান্তের ওপার থেকে আইএমকের শীর্ষ জঙ্গিরা এই রাজ্যে এসে একাধিক বৈঠক করে গিয়েছে বলে খবর। এজেন্সি জেনেছে, স্লিপার সেল তৈরির পাশাপাশি অনুমোদনহীন মাদ্রাসায় চলছিল বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র চালানো শেখানো। এই নিয়ে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।।