Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জামবনীর কলেজে ৩০০ বছরের প্রাচীন পুঁথি বদলে দিতে পারে বাংলার ইতিহাস  

জামবনীর কলেজে ৩০০ বছরের প্রাচীন পুঁথি বদলে দিতে পারে বাংলার ইতিহাস
 
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: জামবনী সেবাভারতী মহাবিদ্যালয়ে রক্ষিত একটি পুঁথি এই মুহূর্তে বাংলার শিক্ষামহলের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন এই পুঁথিটিতে স্থানীয় ভাষায় মহাভারত লেখা আছে। ব্যসদেবের মহাভারত অনুসরণ করেই গায়নী ভঙ্গিতে লেখা হয়েছে পুঁথিটি। মূল মহাভারতের মতোই ১৮টি অধ্যায়ে বিভক্ত এটি। সেবাভারতী কলেজের একদল গবেষক পুঁথিটি নিয়ে গবেষণায় রত। তাঁদের বক্তব্য, এই পুঁথিটি বদলে দিতে পারে ইতিহাস। সেবাভারতী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ সাহু বলেন, কলেজের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফোক মিউজিয়ামে পুঁথিটি সংরক্ষিত আছে। ন্যাকের সদস্যরা প্রথমবার কলেজ পরিদর্শন করতে এসে পুঁথিটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ন্যাক টিমের পরামর্শ মতো পুঁথিটি সংরক্ষণ করে রাখা হবে। গবেষণার কাজ চলছে। আমরা আশাবাদী এই পুঁথি সামনের দিনে নতুন তথ্যের সন্ধান দেবে।
Advertisement
২০০৭ সালে ঝাড়গ্রামের দহিজুড়ির এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছিল পুঁথিটি। হলুদ তুলোট কাগজে ভুষোকালি দিয়ে লেখা পুঁথিটিতে মূল মহাভারতের সঙ্গে মিশে গিয়েছে আঞ্চলিক আখ্যান, স্থানীয় আর্থ-সামাজিক নানা বিষয়। যাতে শ্রোতাদের আকর্ষণ ধরে রাখা যায়। মধ্যযুগের বাংলায় এমন আঞ্চলিক পুঁথির নিদর্শন খুব বেশি নয়। বাংলার সামাজিক স্তরে যে বিবর্তন ঘটে তা নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়। সেবাভারতী মহাবিদ্যালয়ে সংরক্ষিত পুঁথি নতুন ইতিহাসের সন্ধান দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক সরোজকুমার পানি, যিনি গবেষণা করছেন, তিনি বলেন, এই পুঁথিটি রত্নভাণ্ডার। বাঁকুড়ায় ‘শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন’, মেদিনীপুরে ‘চণ্ডীমঙ্গল’ লেখা হয়েছিল। তৎকালে ঝাড়গ্রাম এই এলাকাগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান ছিল। উদ্ধার হওয়া এই পুঁথি ঝাড়গ্রামের সামাজিক ও ধর্মীয় বিবর্তনের সন্ধান দিতে পারে। ন্যাকের সদস্যরা কয়েকদিন আগেই এই কলেজে পরিদর্শন করে গিয়েছেন। দুষ্প্রাপ্য এই পুঁথি দেখে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষকে ভালো করে পুঁথিটি সংরক্ষণ কথা বলেন। ঝাড়গ্রামের অতীত ইতিহাস এখনও লেখা হয়নি। দু’ হাজার বছর আগে নদী তীরবর্তী  জনপদ এলাকায় একাধিক বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। জৈন ব্যবসায়ীরা এখানে বহু জৈন মন্দির তৈরি করেছিলেন। চৈতন্যদেবের আগমনে গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের ধর্মীয় আন্দোলনের প্রভাবও এই এলাকায় পড়েছিল। যাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে বদল এসেছিল। সে ইতিহাসের আজও পুনরুদ্ধার হয়নি। 
জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পুঁথির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। মহাভারতের পুঁথিটি সেগুলির মধ্যে অন্যতম। পুরাতন জনপদ ছিল এমন এলাকায় আরও পুঁথির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন। যা শুধু ঝাড়গ্রামের নয়, বদলে দিতে পারে বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাস। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ