Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জামবনী থেকে ঝাড়গ্রাম ও পরিহাটীর রাস্তা সংস্কারে পর্যটনে উন্নতির আশা

জামবনী থেকে ঝাড়গ্রাম ও পরিহাটীর রাস্তা সংস্কারে পর্যটনে উন্নতির আশা
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে একাধিক নতুন রাস্তা তৈরি ও সংস্কারের কাজ চলছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে পর্যটনের প্রসার ঘটছে। ঝাড়গ্রাম থেকে জামবনী যাওয়ার ১১.২ কিমি রাস্তা ২০ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। পরিহাটী থেকে জামবনীর ফেরোঘাট পর্যন্ত সাড়ে তিন কিমি রাস্তার জন্য ৯ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
Advertisement
ঝাড়গ্রাম-জামবনী ও পরিপাটী-জামবনী দু’টি রাস্তা চিল্কিগড় এলাকাকে যোগ করবে। জেলার অন্যতম পর্যটনস্থল চিল্কিগড়। চিল্কিগড় অরণ্য, কনকদুর্গা মন্দির, চিল্কিগড় রাজবাড়ি, জৈব বৈচিত্র্য পার্ক দেখতে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা এখনে আসেন। বেহাল রাস্তার জন্য পর্যটকদের যাতায়াতের  সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। এলাকার পর্যটন ব্যবসা মার খাচ্ছিল। চিল্কিগড় ঘুরতে না এসে পর্যটকদের বড় একটি অংশ বেলপাহাড়ী পর্যটনস্থলের দিকে চলে যাচ্ছিল। স্থানীয় পর্যটন ব্যাবসায়ীরা তাই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। খানাখন্দ ভরা রাস্তা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। ধুলো ওড়া রাস্তায় নিত্যদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছিল। বেহাল রাস্তার কারণে মালবোঝাই লরি গ্ৰামীণ এলাকার পথ ব্যবহার করছিল। ব্লকের গ্ৰামীণ এলাকার মানুষ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন। ঝাড়গ্রাম থেকে জামবনী রাস্তা আরও মজবুত করার কাজ শুরু হয়েছে। জামবনী পরিহাটি রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু হবে। সেই রাস্তা হলে ব্লকের কেঁন্দুয়া, টেঙ্গিয়া, বেলদা, টুলিবড়, ভাতুর, চিচিড়া সহ একাধিক গ্ৰামের বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে এলাকার আর্থিক উন্নতি হবে। ব্লকের বাসিন্দাদের দাবি মেনে ইতিমধ্যেই চিল্কিগড়ে ডুলুং নদীর ওপরে সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, চিল্কিগড় জেলার অন্যতম পর্যটনস্থল। প্রশাসনের উদ্যোগে চিল্কিগড় কনক দুর্গামন্দির সংস্কার করা হয়েছে। চিল্কিগড় রাজবাড়ির হেরিটেজ হোটেলে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে চিল্কিগড়ের দূরত্ব বেশি নয়। রাস্তা খারাপের জন্য পর্যটকরা এই এলাকা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তা দু’টির কাজ শেষ হলে যাতায়াতের উন্নতি হবে। পর্যটক সংখ্যা বাড়বে। টেঙ্গিয়া এলাকার বাসিন্দা সুরজ কর্মকার বলেন, নানা প্রয়োজনে আমাদের ঝাড়গ্রাম শহরে যেতে হয়। ঝাড়গ্রাম-জামবনী রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। দুই দশক আগেও এই রাস্তা দিয়ে বেশি গাড়ি যাতায়াত করত না। এখন যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। রাস্তাটি হলে এলাকার বহু মানুষ উপকৃত হবেন। বেলদার বাসিন্দা তপন মান্ডি বলেন, এলাকার বাসিন্দারা দাবি ছিল রাস্তাটি প্রশস্ত করার সঙ্গে মজবুত করতে হবে। রাস্তার কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে শুনেছি। কাজ দ্রুত শুরু হোক এটাই চাইছি। চিল্কিগড় রাজবাড়ির উত্তরপুরুষ তেজসচন্দ্র দেও ধবল দেব বলেন, ঝাড়গ্রাম শহর বাদ দিলে জেলার অন্যান্য ব্লক কিছুটা উপেক্ষিত ছিল। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। যাতায়াতের উন্নতি হলে চিল্কিগড়ে পর্যটনের প্রসার হবে বলেই মনে করছি। ঝাড়গ্রাম পূর্ত দপ্তরের আধিকারিক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, ঝাড়গ্রাম থেকে জামবনী রাস্তার মজবুত করার কাজ চলছে। পরিহাটী জামবনীর কাজ চওড়া করার কাজও দ্রুত শুরু হবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ