Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমি সমস্যা মিটতে চলেছে চর মেঘনায়, খুব শীঘ্র দেওয়া হবে সরকারি কাগজ

জমি সমস্যা মিটতে চলেছে চর মেঘনায়, খুব শীঘ্র দেওয়া হবে সরকারি কাগজ
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, করিমপুর: অবশেষে মিটতে চলেছে চর মেঘনার বাসিন্দাদের জমির সমস্যা। স্যাটেলাইটের সাহায্যে সীমান্তের প্রায় ১২ হাজার বিঘা জমির সমীক্ষা শেষের মুখে। খুব শীঘ্রই জমির প্লট নম্বর ফেলে চাষিদের এবং বাসিন্দাদের নামে জমির রেকর্ড তৈরি করে দেওয়া হবে। হোগলবেড়িয়া থানার চর মেঘনা গ্রামটি কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডের ‘অ্যাডভার্স পজিশন’-এ অবস্থিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেড়ার গেট খোলা থাকে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কাছে পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ওই গ্রামে ঢুকতে ও বেরতে হয়। সন্ধ্যার পরে ভারতের মূল ভূখণ্ডের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় চর মেঘনার ১৪০ পরিবারের প্রায় ১১০০ গ্রামবাসী। গ্রামের বাসিন্দারা প্রায় সকলেই চাষাবাদ করেন। চর মেঘনায় শুধু ওই গ্রামের নয়, আশপাশের বেশ কিছু গ্রামের মানুষও চাষাবাদ করেন। গ্রামের অরূপ বিশ্বাস, সুকান্ত মণ্ডল জানান, ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হলেও সেই তালিকায় চরমেঘনার নাম ছিল না। তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের দেওয়া চিঠি এনে এলাকার সাংসদ জানিয়ে দেন, ওইদিন থেকে চর মেঘনাকেও ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।গ্রামটি ভারতের মধ্যে থাকলেও বসবাসের ঘর থেকে চাষের জমি সবই বাংলাদেশের চর পাকুরিয়া ও শেখপাড়া মৌজার অন্তর্গত ছিল। তবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলেও গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে তাঁদের জমির বৈধ কাগজপত্র না থাকায়বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হতাম।পূর্ব পুরুষের সময় থেকে জমিতে চাষ করলেও আমাদের আইনি স্বীকৃতি ছিল না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে পারতাম না। গ্রামের অমিত মাহাত বলেন, আমাদের গ্রামকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকেতৎকালীন মন্ত্রী প্রয়াত সুষমা স্বরাজকে চিঠি দিয়েছিলাম। কয়েক মাস পরেই এই গ্রামও ভারতের অন্তর্ভুক্তহৈয়।এরপর জমিজট কাটাতে দীর্ঘদিন থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে আর্জি জানিয়েছি। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত গত নভেম্বর থেকে জমি সমীক্ষা শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। সরকারি পদক্ষেপে খুশি গ্রামের মানুষরা। করিমপুর ১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুমনকুমার পাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি সংস্কার দপ্তরের ডাইরেক্টর জেলা আধিকারিককে চর মেঘনা গ্রামের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন। জেলা আধিকারিকের নির্দেশমতো নভেম্বর মাসে কলকাতা থেকে সার্ভেটিম স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে জমির প্লটিংয়ের কাজ শেষ করেছে। ওই জমিতে যেসব চাষি চাষাবাদ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরসঙ্গে আলোচনা করে জমির প্লট তৈরি করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই জমির প্লট নম্বর ফেলে ওই চাষিদের এবং বাসিন্দাদের নামে জমির রেকর্ড তৈরি করে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ