Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমি কিনে মস্তবাড়ি তৈরি চলছে, খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি সভাপতি আবাস যোজনার উপভোক্তা

জমি কিনে মস্তবাড়ি তৈরি চলছে, খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি সভাপতি আবাস যোজনার উপভোক্তা
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির টাকা পাচ্ছেন বিজেপি পরিচালিত খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উদয়শঙ্কর মাইতি। একসময় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি উদয়শঙ্করবাবু বোর্ড দখলের মুখে দলবদল করে তৃণমূলের পতাকা ধরেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি করেছিল। কিন্তু, বছর ঘুরতেই সেই উদয়শঙ্করবাবু ফের পুরনো দলে ফিরে যান। তৃণমূল কর্মীকে মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছে। খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির ওই সভাপতিকে নিয়ে আবারও সরগরম গোটা এলাকা। এবার আবাস যোজনায় তাঁর নাম থাকা নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। আবাসের চূড়ান্ত তালিকায় উপভোক্তা হিসেবে ওই বিজেপি নেতার নাম রয়েছে। কিন্তু, নিজকসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের সুন্দরপুর গ্রামে প্রায় দু’হাজার স্কোয়ারফুট এরিয়াজুড়ে তাঁর বিশাল পাকাবাড়ি তৈরি হচ্ছে। তারপরও কেন আবাসের সুবিধা নিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
Advertisement
জানা গিয়েছে, কয়ালচক গ্রামের সুদর্শন জানার কাছ থেকে সাত লক্ষ টাকা দিয়ে সুন্দরপুর গ্রামে ২৩ ডেসিমল জমি কেনেন ওই বিজেপি নেতা। বর্তমানে ওই জমির উপর বিরাট বাড়ি তৈরি চলছে। তারপরেও গরিব মানুষের জন্য নির্ধারিত রাজ্য সরকারের আবাস যোজনার উপভোক্তার তালিকায় নাম রয়েছে ওই বিজেপি নেতার। এতে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কাঁচাবাড়িতে বসবাস করলেও জেলার অনেক জনপ্রতিনিধি আবাস তালিকা থেকে নিজেদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। সেই তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বিজেপি নেতাও রয়েছেন। যেমন, নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের আমদাবাদ-২ পঞ্চায়েত প্রধান পূর্ণচন্দ্র মণ্ডল কাঁচাবাড়িতে বসবাস করেন। আবাস তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পূর্ণচন্দ্রবাবু নিজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিডিও-র কাছে আবেদন জানান। 
নিজকসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের সুন্দরপুর গ্রামে উদয়শঙ্করবাবুর পৈত্রিক মাটির বাড়ি আছে। ওই বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই তিনি জমি কিনেছেন। সেই জমিতে পাকাবাড়ি তৈরির কাজ চলছে। অথচ, আবাসের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকাও ঢুকবে। এ নিয়েই আপত্তি তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জমির পূর্বতন মালিক সুদর্শনবাবু বলেন, আমি সাত লক্ষ টাকায় উদয়শঙ্করবাবুকে ২৩ ডেসিমল জমি বিক্রি করেছি। সেই জমির উপর এখন বাড়ি তৈরির কাজ চলছে।
খেজুরির প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা রণজিৎ মণ্ডল বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উদয়শঙ্কর মণ্ডল সুন্দরপুরে জমি কিনে বাড়ি বানাচ্ছেন। তারপরও তিনি আবাসের উপভোক্তা। তাঁর এই সুবিধা নেওয়া ঠিক হয়নি। তাঁর জায়গায় অন্য একজন উপযুক্ত ব্যক্তি পেতেন। একজন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি যদি নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবেন তাহলে অন্যরা কী শিক্ষা নেবেন?
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উদয়শঙ্করবাবু বলেন, আমি আবাস যোজনার একজন বৈধ উপভোক্তা। আমি কাঁচাবাড়িতে বসবাস করি। আমার কোনও পাকা বাড়ি নেই। আমার নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে বলে যেটা প্রচার করা হচ্ছে সেটা ঠিক নয়। খেজুরির বিধায়ক বিজেপির শান্তনু প্রামাণিক বলেন, উদয়শঙ্কর মাইতি একসময় উচ্ছে বিক্রি করতেন। দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করেছেন। পৈত্রিক বাড়ি মাটির তৈরি। কিন্তু, এখন জমি কিনে পাকাবাড়ি তৈরির বিষয়টা জানা নেই। যদি এমনটা হয় এবং আবাসের সুবিধা নিয়ে থাকেন তাহলে নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসন পদক্ষেপ করুক।
সম্পর্কিত সংবাদ