Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জামুড়িয়ায় বামদেব মন্দিরে চুরি, চাঞ্চল্য

জামুড়িয়ায় বামদেব মন্দিরে চুরি, চাঞ্চল্য
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কালীপুজোর পরের দিন রাতেই কালীসাধক বামদেবের মন্দিরে চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জামুড়িয়ায়। শনিবার সকালে মন্দির খুলে দেখা যায়, ভিতরে রাখা দানপাত্রের তালা ভেঙে তিন বছর ধরে জমা টাকা লুট হয়ে গিয়েছে। তৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল মন্দিরের ভিতরে দানপাত্রের তালা ভাঙা থাকলেও বাইরের দরজার তালা ভাঙার কোনও প্রমাণ মেলেনি। জামুড়িয়া থানা এলাকার অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এই বামদেব মন্দির। যেখানে বটগাছের তলায় সাধনা করেছিলেন কালীসাধক বামদেব। এই মন্দিরে রহস্যময় চুরির ঘটনায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মন্দিরের সঙ্গে বিভিন্ন ভাবে যুক্ত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরব বাসিন্দারা। 
Advertisement
তারামায়ের পরম সাধক বামাখ্যাপার সঙ্গে জামুড়িয়ার ইকড়া গ্রামের সম্পর্ক ছিল। এখানকার জমিদার পরিবার ছিল বামদেবের পরম ভক্ত। সেই সূত্র ধরে ভক্তের বাড়ি বার বার এসেছেন বামাখ্যাপা। সেই সময়ে টিকিট না থাকায় ইকড়ার অদূরে মহিষাবুড়িতে সাধক বামদেবকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রেন আর চালানো যায়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ট্রেন। তারপর অনেক খোঁজার পর এক বটতলে বামদেবকে ধ্যান করতে দেখা যায়।  সেখানে থেকে তাঁকে ফের ট্রেনে চাপানো হয়। তারপর ট্রেন চলতে থাকে। তারপর মহিষাবুড়ির বটতলায় গড়ে ওঠে বামদেব মন্দির। সেখানেই তাঁর আরাধ্য মাকালীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। 
অন্যান্যবারের মতো এবারও ঘটা করে মাকালীর পুজো হয়। তারপরই শনিবার এই চুরির ঘটনাটি সামনে আসে। মন্দির কমিটির সদস্য অরুণ কোড়া, কাজল চৌধুরী বলেন, অর্থের প্রয়োজন না হওয়ায় তিনবছর ধরে দানপত্র তালা বন্ধ করেই রাখা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, মন্দিরের কোনও কাজ করার জন্য অর্থ প্রয়োজন হলে দানপাত্র খোলা হবে। ততদিনে অনেক টাকা জমে যাবে। গ্রামের বাসিন্দা অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা চাই, পুলিস দ্রুত এই রহস্যজনক লুটের কিনারা করুক। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পেলেও আমরা তদন্ত শুরু করেছি। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ