সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: জলস্বপ্ন প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের পরিষেবার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে অণ্ডাল খনি অঞ্চলের একাংশে। অণ্ডাল থানার মদনপুর পঞ্চায়েতের চকরামবাটি এলাকায় পরিত্যক্ত কয়লাখনির জলাশয় থেকেই পাইপ লাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত জল সরাবরাহ করা হবে। ওই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় শনিবার পরিদর্শনে আসেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের আধিকারিক ও সরকারি কর্মীরা।
Advertisement
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজোড়া পঞ্চায়েত এলাকা কয়লাখনি অঞ্চল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জলের সঙ্কট রয়েছে। শীত ও গ্রীষ্মে কুয়ো, পুকুর সহ জলাশয়গুলি শুকিয়ে যায়। কয়লা উত্তোলন হওয়ায় ওই এলাকায় জলস্তর অনেকটা নেমে গিয়েছে। আশপাশের খনি অঞ্চলগুলিতেও একই পরিস্থিতি। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর ও ইসিএল কর্তৃপক্ষ এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত জল সরবরাহের চেষ্টা চালালেও সমস্যা মেটেনি। গ্রীষ্মকাল বা শীতকালে জলের দাবিতে এলাকাবাসী প্রায়ই আন্দোলনে নামেন। কয়েক মাস আগে জলস্বপ্ন প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি জলের পাইপলাইন ও কল বসানোর কাজ হয়েছে। কিন্তু জল দেওয়া শুরু হয়নি। জলের উৎস নিয়ে সমস্যা ছিল। শেষমেশ পরিত্যক্ত খোলামুখ কয়লাখনির বিশাল জলাশয়কে বেছে নেওয়া হয়। যদিও ওই এলাকায় কয়েকটি পরিত্যক্ত খাদানের জলাশয় অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছিল। অসাধু চক্র ডিভিসির ছাই দিয়ে ভরাট করছিল। প্রশাসন খবর পাওয়ামাত্র ভরাট বন্ধ করে। ওই পঞ্চায়েতের চকরামবাটি এলাকায় জলাশয় থেকে জল তোলার পাম্প ও পরিস্রুত করার মেশিন বসানোর কাজ শুরু হয়। প্রায় ৮কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি গড়ে ওঠে। এদিন পরিদর্শনে এসে জেলাশাসক বলেন, কাজোড়া খোলামুখ খনি থেকে প্রায় ন’হাজার পরিবারকে জল দেওয়া হবে। কাজোড়া পঞ্চায়েত এলাকায় ছ’হাজার ও হরিশপুর এলাকায় দু’হাজার পরিবার ছাড়াও আরও একটি এলাকায় জল দেওয়া হবে। এখন ১৫দিন পরীক্ষামূলকভাবে জল চালু করা হবে। আগামী বছর ১৫জানুয়ারির মধ্যে বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ শুরু করে দিতে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জলাশয় ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেলেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখানে জলের জোগান কম থাকায় খোলামুখ খনির জলাশয় নিয়ে আরও কয়েকটি প্রকল্প করা হচ্ছে। • পরিদর্শনে পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক এস পোন্নাবলম।
তিনি আরও বলেন, জলাশয় ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেলেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখানে জলের জোগান কম থাকায় খোলামুখ খনির জলাশয় নিয়ে আরও কয়েকটি প্রকল্প করা হচ্ছে। • পরিদর্শনে পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক এস পোন্নাবলম।



