সংবাদদাতা, মানকর: গলসি-১ ব্লকের মানকরে জলের সমস্যা অব্যাহত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামের বেশিরভাগ অংশে পানীয় জল পৌঁছচ্ছে না। পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও আবেদন করেছিলেন মানকরের বাসিন্দারা। অভিযোগ, তারপরেও সুরাহা হয়নি। যদিও মানকর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তন্ময় ঘোষ বলেন, এলাকায় দু’টি নতুন পাম্প স্টেশনের কাজ চলছে। একটি পঞ্চায়েতের পাশে ও একটি রায়পুরে সায়রের পাশে হচ্ছে। আগের থেকে জলের সমস্যা অনেকটাই মিটেছে। এই দু’টি পাম্প স্টেশন চালু হয়ে গেলে এলকার সব বাড়িতেই জল যাবে। স্থানীয় বাসিন্দা অসিত মুখোপাধ্যায়, লিটন চৌধুরীর অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িতে দীর্ঘদিন আগে জলের লাইন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জল নেই। গ্রামের ১৩টি বুথের মধ্যে অধিকাংশ বুথে জল আসে না বললেই চলে। মানকরের ভট্টাচার্য পাড়া, চৌরঙ্গি, মল্লিকপাড়া, বাগানেপাড়া, মেটেপাড়া, স্টেশন রোডের মতো এলাকায় জল নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নবজোয়ার কর্মসূচিতে মানকরে এসেছিলেন। সেই সময়ে বাসিন্দারা জলের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জলের সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই মানকরে জলের সঙ্কট চলছে। পঞ্চায়েত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের নজরে এনেও লাভ হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, কল আছে কিন্তু জল নেই। কল লাগানোর দ্বিতীয় দিন থেকে সুতোর মতো জল পড়ছিল। ধীরে ধীরে তাও বন্ধ হয়ে যায়। বেশ কিছু জায়গায় জল পড়ে নষ্ট হচ্ছে, সেদিকেও নজর নেই প্রশাসনের। স্থানীয়রা জানান, কিছু কল থেকে জল পড়ে, কিন্তু তা নিয়মিত নয়। আগে বিকেল চারটে নাগাদ জল আসত। এখন নির্দিষ্ট কোনও সময় নেই। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়গোপাল দে। তিনি বলেন, পানীয় জল মানুষের মৌলিক অধিকার। আগে সমস্ত কলে জল পড়ত। কিন্তু এখন পরিকল্পনার অভাবে অধিকাংশ মানুষ জল পাচ্ছে না। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, প্রতি বাড়িতে পানীয় জলের জন্য কেন্দ্র সরকার প্রকল্প নিয়েছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের অপদার্থতার জন্য মানুষকে ফল ভোগ করতে হচ্ছে। রাজ্য সরকার প্রথম দু’ বছর এই প্রকল্পকে মান্যতা দেয়নি। পরে বিরোধীদের চাপে প্রকল্পের নাম বদল করে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কল দিলেও জল দিতে পারছে না। এখনও অনেক বাড়িতে কলই দিতে পারেনি।



