Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলার নেতারা বিক্রি হয়ে গিয়েছেন সুকান্তকে চিঠি, তোলপাড়

জেলার নেতারা বিক্রি হয়ে গিয়েছেন সুকান্তকে চিঠি, তোলপাড়
  • ৪ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বালি মাফিয়া, ফ্যাক্টরি ও কোলিয়ারি মালিকদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার নেতারা। দলের রাজ্য সভাপতিকে লেখা চিঠিতে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন আসানসোল গেরুয়া শিবিরের মণ্ডলস্তরের নেতারা। চিঠির প্রথম অনুচ্ছেদেইে লেখা— ‘দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার অনিয়ম ও জেলাজুড়ে চলা সাংগঠনিক সিন্ডিকেটের বলি হচ্ছে জেলার সক্রিয় ও দক্ষ কর্মীরা।’ চিঠির চতুর্থ প্যারাগ্রাফে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। সেখানে লেখা—‘দূষণে অতিষ্ঠ মানুষ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। অথচ জেলার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর কোনও বিকার নেই। সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বুঝে গিয়েছে, জেলা সভাপতি সহ তাঁর সিন্ডিকেট কোম্পানি বিক্রি হয়ে গিয়েছে বালি মাফিয়া, ফ্যাক্টরি ও কোলিয়ারি মালিকদের কাছে।’ 
Advertisement
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নানা বেনিয়মের অভিযোগে সরব হয়েছে সাধারণ মানুষ। মানুষের অভিযোগ পেয়ে খাসজমি দখল, পুকুর ভরাট নিয়ে কার্যত গর্জে উঠেছেন মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের পরই শাস্তির খাঁড়া নামে দ‌ুই পুলিস অফিসারের ঘাড়ে। জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি বালির কারবার নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি সেভাবে এই ইস্যুগুলি নিয়ে ময়দানে নামেনি। অবৈধ কয়লা কারবারে প্রাণহানির পরও ঝাঁঝালো আন্দোলন হয়নি। এই সব বিষয় তুলে ধরে রাজ্য সভাপতিকে চিঠি লিখেছেন বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে গেলে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশই ফোন করে আন্দোলনে যোগ দিতে মানা করে। এমনকী নিজের দলের কর্মীদের নামে পুলিস কেস করানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। 
এই চিঠি রাজ্য সভাপতিকে দেওয়ার পাশাপাশি চিঠির কপি দেওয়া হয়েছে, রাজ্য বিজেপির ওজিএস অমিতাভ চক্রবর্তী, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, রাঢ়বঙ্গের জোনাল ইনচার্জ লক্ষ্মণ ঘোড়ুইকেও। চিঠিতে সই রয়েছে জামুড়িয়া ১ নম্বর বিদায়ী মণ্ডল সভাপতি জয়গণেশ সিং, ওই মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক বাপি বাউরি, ওবিসি মোর্চার জেলা সম্পাদক গোপী পাত্র প্রমুখের। বাপি বাউরি, গোপী পাত্র বলেন, জেলায় যে সব ঘটনা ঘটছে তা-ই আমরা রাজ্য সভাপতিকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। আমরা আন্দোলন না করায় আমাদের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও হতাশ। 
বিজেপি জেলা সভাপতি বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। রাজ্য সভাপতিকে দেওয়া চিঠি প্রকা঩শ্যে এল কীভাবে? দুনীর্তির দায়ে দল যাঁদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে তাঁরাই কারও উস্কানিতে এই কাজ করেছেন। এই চিঠি ব্যক্তি বাপ্পা চট্টোপাধ্যায়কে নয়, দলকেই কালিমালিপ্ত করেছে। 
বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, বিজেপি সভাপতি নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এই ধরনের চিঠি লেখা হল? বেনিয়ম হয়ে থাকলে আগে কেন জানানো হল না। অনেকে পদ না পেয়ে এই ধরনের কাজ করেন। তবু বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।
তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, বিজেপির অন্দরে চূড়ান্ত গোষ্ঠীকোন্দল চলছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ